কাল্পনিক দুইটি নাম (রাহি, মাশা) দিয়ে একটি অংক বুঝার চেষ্টা করি যেখানে আমরা বুঝতে পারব সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ও সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীর মধ্যে কে বেশি লাভবানঃ
ধরি,
মাশা = সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী
রাহি = সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী
মাশার স্ত্রীর নাম = মাহি
রাহির স্ত্রীর নাম = রানু
বি. দ্রঃ রাহি ও মাশা একটি কোম্পানিতে প্রায় একই বয়সে (ধরি, ২৫ বছর বয়সে) একই সাথে খুব ছোট পোস্টে যোগদান করে (কারণ তাদের পড়াশুনা খুবই কম ছিল) এবং তাদের বেতন সমান। পড়াশুনা খুবই কম থাকার কারণে তাদের বছরের পর বছর কাজ করার পরেও কোন প্রমোশন হচ্ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করার ফলে কোন ভয় না করে মাশা চাকরির পাশাপাশি অল্প কিছু টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসা সহ লোক ঠকানোর কাজ শুরু করল এবং এই অবৈধ ব্যবসা থেকে আস্তে আস্তে লাভও হতে শুরু করল।
অপরদিকে, সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করার কারণে রাহি চাকরির পাশাপাশি নিজে কষ্ট করে হলেও গরিবদের সাহায্য করত, সৎ পথে চলত, সুদ থেকে দূরে থাকত, কোনো হারাম আয় করত না এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলত।
ধরি,
মাশা = সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী
রাহি = সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী
মাশার স্ত্রীর নাম = মাহি
রাহির স্ত্রীর নাম = রানু
বি. দ্রঃ রাহি ও মাশা একটি কোম্পানিতে প্রায় একই বয়সে (ধরি, ২৫ বছর বয়সে) একই সাথে খুব ছোট পোস্টে যোগদান করে (কারণ তাদের পড়াশুনা খুবই কম ছিল) এবং তাদের বেতন সমান। পড়াশুনা খুবই কম থাকার কারণে তাদের বছরের পর বছর কাজ করার পরেও কোন প্রমোশন হচ্ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করার ফলে কোন ভয় না করে মাশা চাকরির পাশাপাশি অল্প কিছু টাকা দিয়ে সুদের ব্যবসা সহ লোক ঠকানোর কাজ শুরু করল এবং এই অবৈধ ব্যবসা থেকে আস্তে আস্তে লাভও হতে শুরু করল।
অপরদিকে, সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করার কারণে রাহি চাকরির পাশাপাশি নিজে কষ্ট করে হলেও গরিবদের সাহায্য করত, সৎ পথে চলত, সুদ থেকে দূরে থাকত, কোনো হারাম আয় করত না এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলত।
রানু ও মাহি বান্ধবী। হঠাৎ তারা কি মনে করে একটি সিদ্ধান্তে আসল। সিদ্ধান্তটি হল, যদি বেঁচে থাকে জীবনের শেষ পর্যায়ে তারা যাচাই করবে তাদের স্বামীদের মধ্যে কার ক্রেডিট বেশি।
প্রায় ২৫ বছর পর হঠাৎ করে রানু ও মাহির আবার দেখা হয়ে গেল। রানু একটু কষ্ট পেল এই কারণে যে মাহি এখন অনেক টাকার মালিক। ত যাই হোক এবার কাজের কথায় আসি-
ধরি,
💭 চাকরি করে ১ বছরে অর্জন = ১০ পয়েন্ট
💭 অবৈধ ব্যবসা করে ১ বছরে অর্জন = ১০ পয়েন্ট
🍀 মাশা ২৫ বছরে চাকরিতে যোগদান করে ৭০ বছরে (ধরি) মারা গেলে, তার চাকরির বয়স হয়:
= ৭০ বছর - ২৫ বছর
= ৪৫ বছর
মাশা এই 45 বছরে দুনিয়ায় অর্জন করল
= চাকরি করে অর্জন (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)+ অবৈধ ব্যবসা করে অর্জন (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)
= (৪৫ × ১০ পয়েন্ট) + (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)
= ৪৫০ পয়েন্ট + ৪৫০ পয়েন্ট
= ৯০০ পয়েন্ট
🍀 আবার, রাহি ২৫ বছরে চাকরিতে যোগদান করে ৭০ বছরে (ধরি) মারা গেলে, তার চাকরির বয়স হয়:
= ৭০ বছর - ২৫ বছর
= ৪৫ বছর
রাহি এই 45 বছরে দুনিয়ায় অর্জন করল:
= চাকরি করে অর্জন (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)
= ৪৫০ পয়েন্ট
মাশার ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
=৯০০ পয়েন্ট (ইহকালে) + ০ পয়েন্ট (পরকালে)
=৯০০ পয়েন্ট
রাহির ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
=৪৫০ পয়েন্ট (ইহকালে) + ০ পয়েন্ট (পরকালে)
=৪৫০ পয়েন্ট
মাশার ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
= ৯০০ পয়েন্ট (ইহকালে) + অনন্তকাল শাস্তি (পরকালে)
= ৯০০ পয়েন্ট + অনন্তকাল শাস্তি
= অনন্তকাল শাস্তি
রাহির ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
= ৪৫০ পয়েন্ট (ইহকালে) + অনন্তকাল শান্তি (পরকালে)
= ৪৫০ পয়েন্ট + অনন্তকাল শান্তি
= অনন্তকাল শান্তি
অতএব, দেখা যাচ্ছে...
সৃষ্টিকর্তা অবিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে,
মাশা পেয়েছে = ৯০০ পয়েন্ট
রাহি পেয়েছে = ৪৫০ পয়েন্ট
সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে,
মাশা পেয়েছে = অনন্তকাল শাস্তি
রাহি পেয়েছে = অনন্তকাল শান্তি
থিওরি সম্ভাব্যতার (probability) ব্যাখ্যা অনুসারে বলা যায়, হয় পরকাল থাকবে, না হয় পরকাল থাকবে না।
📝 অংকঃ
[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখানে বয়স, লাভ এবং পয়েন্টের সংখ্যাগুলো কেবল হিসাবটি সহজভাবে বোঝানোর জন্য একটি কাল্পনিক গাণিতিক মডেল বা তাত্ত্বিক রূপক হিসেবে ধরা হয়েছে। বাস্তব জীবনে যেকোনো আস্তিক বা নাস্তিক বেশি বা কম বাঁচতে পারে।]ধরি,
💭 চাকরি করে ১ বছরে অর্জন = ১০ পয়েন্ট
💭 অবৈধ ব্যবসা করে ১ বছরে অর্জন = ১০ পয়েন্ট
🍀 মাশা ২৫ বছরে চাকরিতে যোগদান করে ৭০ বছরে (ধরি) মারা গেলে, তার চাকরির বয়স হয়:
= ৭০ বছর - ২৫ বছর
= ৪৫ বছর
মাশা এই 45 বছরে দুনিয়ায় অর্জন করল
= চাকরি করে অর্জন (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)+ অবৈধ ব্যবসা করে অর্জন (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)
= (৪৫ × ১০ পয়েন্ট) + (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)
= ৪৫০ পয়েন্ট + ৪৫০ পয়েন্ট
= ৯০০ পয়েন্ট
🍀 আবার, রাহি ২৫ বছরে চাকরিতে যোগদান করে ৭০ বছরে (ধরি) মারা গেলে, তার চাকরির বয়স হয়:
= ৭০ বছর - ২৫ বছর
= ৪৫ বছর
রাহি এই 45 বছরে দুনিয়ায় অর্জন করল:
= চাকরি করে অর্জন (৪৫ × ১০ পয়েন্ট)
= ৪৫০ পয়েন্ট
🌿 সৃষ্টিকর্তা অবিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে
সৃষ্টিকর্তা অবিশ্বাসীদের তথ্যমতে, পরকাল বলতে কিছুই নেই অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে পরকালে কোন পয়েন্ট নেই (০ পয়েন্ট)। তাই এই তথ্যমতে মাশা ও রাহির ইহকালের জন্য পরকালে কোন হিসাব দিতে হবে না।মাশার ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
=৯০০ পয়েন্ট (ইহকালে) + ০ পয়েন্ট (পরকালে)
=৯০০ পয়েন্ট
রাহির ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
=৪৫০ পয়েন্ট (ইহকালে) + ০ পয়েন্ট (পরকালে)
=৪৫০ পয়েন্ট
🌿 সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে
সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসী দের তথ্যমতে, পরকালে মাশার অনন্তকাল শাস্তি হবে এবং এর জন্য মাশার ইহকালের ৯০০ পয়েন্ট এর কোন মূল্য থাকবে না।মাশার ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
= ৯০০ পয়েন্ট (ইহকালে) + অনন্তকাল শাস্তি (পরকালে)
= ৯০০ পয়েন্ট + অনন্তকাল শাস্তি
= অনন্তকাল শাস্তি
রাহির ইহকাল ও পরকালে মোট অর্জন:
= ৪৫০ পয়েন্ট (ইহকালে) + অনন্তকাল শান্তি (পরকালে)
= ৪৫০ পয়েন্ট + অনন্তকাল শান্তি
= অনন্তকাল শান্তি
অতএব, দেখা যাচ্ছে...
সৃষ্টিকর্তা অবিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে,
মাশা পেয়েছে = ৯০০ পয়েন্ট
রাহি পেয়েছে = ৪৫০ পয়েন্ট
সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে,
মাশা পেয়েছে = অনন্তকাল শাস্তি
রাহি পেয়েছে = অনন্তকাল শান্তি
থিওরি সম্ভাব্যতার (probability) ব্যাখ্যা অনুসারে বলা যায়, হয় পরকাল থাকবে, না হয় পরকাল থাকবে না।
Condition 1: সম্ভাব্যতা (probability) অনুসারে যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব না থাকে মৃত্যুর পর,
মাশা হিসাব থেকে বেঁচে যাবে
রাহি হিসাব থেকে বেঁচে যাবে
রাহি হিসাব থেকে বেঁচে যাবে
Condition 2: সম্ভাব্যতা (probability) অনুসারে যদি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকে মৃত্যুর পর,
মাশার শাস্তি হবে অনন্ত কাল
রাহি শান্তিতে থাকবে অনন্ত কাল
⏩ পরিশেষে বুঝা যাচ্ছে,
⏩ পরিশেষে বুঝা যাচ্ছে,
- মাশার অবস্থান Condition 1 এ ভাল (হিসাব থেকে বেঁচে গেছে) কিন্তু Condition 2 তে খুবই খারাপ।
- রাহির অবস্থান condition 1 এ ভাল (হিসাব থেকে বেঁচে গেছে) ও Condition 2 তে খুবই ভাল।
সম্ভাব্যতা তত্ত্বের (Probability) চূড়ান্ত ফলাফল:
ব্লেইজ প্যাসকেলের 'প্যাসকেলস ওয়েজার' অনুযায়ী, পরকাল না থাকলে কেউ আফসোস পায় না, কিন্তু পরকাল থাকলে মাশার অনন্ত কাল শাস্তি ও রাহির পরম শান্তি নিশ্চিত হয়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিচারে বিশ্বাসীরাই সর্বোচ্চ লাভবান।
গভীর দর্শন: এই হিসাব মানুষকে অন্ধ বানায় না, বরং সত্য অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে। কেবল বাজি জেতার জন্য নয়, বরং কুরআনের অলৌকিকত্ব, বিজ্ঞানমনস্কতা ও ঐতিহাসিক প্রমাণ যাচাই করে ইসলামকে সত্য জেনে গ্রহণ করলে উভয় জগতেই বিজয়ী হওয়া যায়।
প্রিয় পাঠক, আপনারাই এখন সুক্ষভাবে চিন্তা করে বলুন আপনার সিদ্ধান্ত কি?
🍀 সারমর্মঃ
সুতরাং ইহকালের সংক্ষিপ্ত হিসাবে মাশা এগিয়ে থাকলেও, পরকালের অনন্তকালীন অসীম লাভের দিক থেকে রাহি মাশা থেকে অনেক অনেক বেশি এগিয়ে অর্থাৎ উপরের এই সমীকরণ থেকে আমি এতক্ষণ কি বুঝাতে চেয়েছি আপনারা আশা করি আন্দাজ করতে পেরেছেন। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসীরা অবশ্যই মৃত্যুর পর লাভবান হবে যেখানে সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীদের অবশ্যই মৃত্যুর পর অনন্তকাল আফসোস করতে হবে।প্রিয় পাঠক, আপনারাই এখন সুক্ষভাবে চিন্তা করে বলুন আপনার সিদ্ধান্ত কি?
যুক্তি ও সত্যের সন্ধান: অনেকে মনে করতে পারেন, এই লাভ-ক্ষতির হিসাব দেখে কি মানুষ সত্যি সত্যি বিশ্বাস করতে পারে? আসলে এই গাণিতিক সমীকরণ কাউকে অন্ধ বিশ্বাসী বানায় না, বরং এটি একজন বুদ্ধিমান মানুষকে পরকাল নিয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, পৃথিবীতে তো অনেক ধর্ম আছে, তাহলে রাহি কেন ইসলামকেই বেছে নিল? রাহি কেবল এই সমীকরণের লোভে বিশ্বাসী হয়নি, বরং সে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব, বৈজ্ঞানিক সামঞ্জস্যতা এবং ঐতিহাসিক অকাট্য প্রমাণাদি যাচাই করেই ইসলামকে সত্য বলে গ্রহণ করেছে। ফলে সে গাণিতিক সম্ভাবনা এবং বাস্তব প্রমাণ - উভয় দিক থেকেই নিরাপদ ও বিজয়ী।
Questions and Answers
নাস্তিক সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অস্বীকার করে ভালো কাজ করলে সমস্যা আছে?
রাফসান ও করিমের অসমাপ্ত হিসাব: ধরুন, ক্ষমতাশালী রাফসান নিরীহ করিমের ওপর চরম জুলুম করল। কোনো বিচার হওয়ার আগেই রাফসান দুর্ঘটনায় মারা গেল। নাস্তিক্যবাদ অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আর কিছুই নেই। এর মানে, জালিম রাফসান চিরতরে পার পেয়ে গেল। আর মজলুম করিম চিরকালের জন্য ইনসাফবঞ্চিত হলো। যদি পরকাল না থাকে, তবে মহাবিশ্বের চূড়ান্ত সত্য: "অন্যায়ই শেষ পর্যন্ত জিতে যায়" আপনার বিবেক কি এই নিষ্ঠুর, অন্ধ ও চরম অর্থহীনতা মেনে নেয়? কখনোই না! কারণ আপনার ভেতরের অবস্তুগত বিবেক নিজেই একটি পরম বিচার ও নিখুঁত হিসাব-নিকাশ দাবি করছে। আর এই চুলচেরা হিসাব-নিকাশ তখনই সম্ভব, যদি একজন সর্বশক্তিমান, ন্যায়বিচারক সৃষ্টিকর্তা এবং মৃত্যুর পর একটি পরকাল অবশম্ভাবীভাবে বিদ্যমান থাকে। যেখানে প্রতিটি জুলুমের বিচার হবে এবং প্রতি ফোটা চোখের জলের হিসাব নেওয়া হবে। এই অসমাপ্ত হিসাব মেলাতেই সৃষ্টিকর্তা ও পরকালের অস্তিত্ব পরম যুক্তিযুক্ত।
নাস্তিক্যবাদী বা ধর্মনিরপেক্ষ নৈতিকতার মূল দুটি স্তম্ভ হলো পারস্পরিক সম্মতি এবং কারো সরাসরি ক্ষতি না করার নীতি। তারা মনে করেন, যদি দুটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজেদের সম্মতিতে কোনো কাজ করে এবং তাতে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সরাসরি ক্ষতি না হয়, তবে সেই কাজটি ভালো বা বৈধ।
শুনতে চমৎকার লাগলেও, বাস্তব জীবনে নাস্তিকদের এই মূলনীতিগুলো চরম ক্ষতিকর ও মারাত্মক সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনে। কারণ, মানুষের তৈরি এই আপেক্ষিক নীতিতে যা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা ভালো কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, বাস্তবে তা সমাজ ও মানবতার জন্য চরম ধ্বংসাত্মক রূপ নেয়। নিচে কিছু বাস্তব উদাহরণ দেওয়া হলো:
1. নাস্তিকদের 'পারস্পরিক সম্মতি'র নীতি অনুযায়ী বিয়ের বাইরে লিভ-ইন রিলেশন বা ফ্রি-সেক্স একটি "ব্যক্তিগত অধিকার ও ভালো কাজ"। কিন্তু বাস্তবে এটি পারিবারিক কাঠামো ভেঙে দেয়, বিশ্বস্ততা নষ্ট করে এবং লাখ লাখ পরিচয়হীন শিশুর জন্ম দেয়, যা সমাজের জন্য চরম ক্ষতিকর।
2. পুঁজিবাদী মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আইন মেনে ও পারস্পরিক চুক্তিতে সুদ দেওয়া-নেওয়াকে "ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা" বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি গরিবের রক্ত চুষে ধনীকে আরও ধনী করার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরির একটি অমানবিক হাতিয়ার।
3. ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে মদ বা জুয়া খেলাকে ব্যক্তিগত বিনোদন এবং মানুষের স্বাধীন অধিকার (ভালো কাজ) মনে করা হয়, কারণ তারা নিজেদের টাকা খরচ করছে। কিন্তু বাস্তবে এটি কোটি কোটি পরিবারের ধ্বংস, লিভার নষ্ট, পারিবারিক সহিংসতা এবং অপরাধের মূল কারণ।
4. কিছু তথাকথিত প্রগতিশীল সমাজে "ইচ্ছামৃত্যু বা চিকিৎসকের সহায়তায় আত্মহত্যাকে" মানুষের কষ্টের অবসান ঘটানোর "মানবিক ও ভালো কাজ" বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি মানুষের জীবনের মূল্য কমিয়ে দেয় এবং হতাশগ্রস্ত মানুষকে বেঁচে থাকার লড়াই থেকে ছিটকে ফেলে।
5. গর্ভপাতকে একদল ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ "নারীর নিজের শরীরের ওপর অধিকার" হিসেবে উদযাপন করলেও, বাস্তবে এটি একটি অবোধ ও নিষ্পাপ প্রাণকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই গর্ভে হত্যা করার মতো নিষ্ঠুর কাজ।
6. নাস্তিক্যবাদী নৈতিকতার মূল ভিত্তি যেহেতু 'পারস্পরিক সম্মতি', তাই এই দুর্বল লজিক ব্যবহার করে বিশ্বের অনেক আধুনিক আইনি কাঠামোতে মানুষের সাথে পশুর বিকৃত যৌন সম্পর্ককেও একসময় আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। কারণ তাদের লজিকে পশুর "সম্মতি বা ক্ষতির" কোনো আইনি পরিমাপক ছিল না, যা মানব সভ্যতার জন্য চরম লজ্জাজনক ও ক্ষতিকর।
7. একই 'পারস্পরিক সম্মতি'র অজুহাতে যদি দুই জন প্রাপ্তবয়স্ক আপন ভাই-বোন নিজেদের ইচ্ছায় কোনো শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়, তবে নাস্তিকদের তৈরি 'নো-হার্ম' বা 'মিউচুয়াল কনসেন্ট' নীতি দিয়ে একে নৈতিকভাবে ভুল বা ক্ষতিকর প্রমাণ করা অসম্ভব। কেবল সৃষ্টিকর্তার স্থায়ী বিধানই একে চূড়ান্ত অপরাধ বলতে পারে।
8. কোনো কোনো বস্তুবাদী ও উপযোগবাদী নাস্তিক দার্শনিক এমন যুক্তিও দিয়েছেন যে, সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর যেহেতু নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনা বা আত্ম-সচেতনতা থাকে না, তাই অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো শিশুকে হত্যা করা আর একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হত্যা করা এক নয়! মানুষের মগজপ্রসূত নৈতিক নীতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ।
9. অতীতে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক বর্ণবাদের দোহাই দিয়ে দাবি করা হয়েছিল, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর মানুষ বিবর্তনের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা "অর্ধ-মানব"। এই তথাকথিত বৈজ্ঞানিক নৈতিকতার ওপর ভিত্তি করেই কোটি কোটি মানুষকে দাস বানানো হয়েছিল এবং গণহত্যা চালানো হয়েছিল।
10. কর্পোরেট দুনিয়ায় দেশের আইন মেনে এবং পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে গরিবের পানির উৎস বা জমি দখল করে ব্যবসা করা এবং প্রফিট বাড়ানোকে "সফল কর্পোরেট নীতি" বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা কোটি কোটি মানুষকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, যা মানবতার পরিপন্থী।
এই রকম আরো কাজ থাকতে পারে যা নাস্তিকের মূলভিত্তিতে ভালো মনে হলেও বাস্তবে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। অর্থাৎ, সৃষ্টিকর্তার দেওয়া স্থায়ী ও ঐশ্বরিক বিধান ছাড়া মানুষের তৈরি তথাকথিত 'স্বাধীন নৈতিক নীতি' দিনশেষে চরম বিকৃতি, স্বার্থপরতা ও সামাজিক নিষ্ঠুরতার জন্ম দেয়।
সসীম অপরাধের জন্য অসীম শাস্তি কেন?
এখানে সৃষ্টিকর্তার কোনো দোষ নেই। কারণ, মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে আসার আগেই রূহের জগতে আমরা সবকিছু জেনে-বুঝে সৃষ্টিকর্তার সাথে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করেছিলাম।পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আরাফের ১৭২ নম্বর আয়াতে এই চুক্তির কথা বলা হয়েছে (যাকে 'মিছাক' বা প্রতিশ্রুতি বলা হয়)। শুধু তাই নয়, সূরা আল-আহযাবের ৭২ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, এই মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টি (আকাশ, পৃথিবী বা পাহাড়) যখন পরীক্ষার এই বিশাল 'আমানত' বা দায়িত্ব নিতে ভয় পেয়েছিল, তখন মানুষ অতি উৎসাহী হয়ে স্বেচ্ছায় এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির (Free Will) পরীক্ষা দিতে রাজি হয়েছিল। সুতরাং, আমরা জেনেশুনেই এই অনন্তকালের জান্নাত পাওয়ার বা জাহান্নামে যাওয়ার বাজিতে অংশ নিয়েছি। শর্ত ভঙ্গ করলে শাস্তি হওয়াটাই তো নিখুঁত ন্যায়বিচার!
পরকাল থাকার সম্ভাবনা কি ৫০-৫০?
এখানে 'হয় থাকবে, না হয় থাকবে না' বলতে গাণিতিক ৫০% বুঝানো হয়নি। এটি কেবল একটি লজিক্যাল চয়েস। বাস্তব জীবনে আগুন থাকার সম্ভাবনা ১% হলেও বুদ্ধিমান মানুষ যেমন সতর্ক হয়, ঠিক তেমনি পরকাল থাকার সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলেও তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন