সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সৃষ্টিকর্তা কি জোর করে আমাদের এই পৃথিবীর পরীক্ষায় ফেলেছেন, নাকি জন্মের আগেই আমাদের রূহ সবকিছু জেনেবুঝে তাঁর সাথে চুক্তি করেছিল?

 মহাবিশ্বের এক পরম করুণাময়, সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞ সত্তা হিসেবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে যখন আমরা চিন্তা করি, তখন আমাদের অবচেতন মনেই বেশ কিছু প্রশ্ন ও খটকা এসে ভিড় জমায়। আমরা অনেকেই হয়তো মুখে প্রকাশ করতে পারি না, কিন্তু একান্তে যখন নিজের বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়াই, তখন এই প্রশ্নগুলো আমাদের মনকে আলোড়িত করে। হয়তো আপনিও কখনো না কখনো একা বসে ভেবেছেন—আমি কেন এই পৃথিবীতে এলাম? নিজের অজান্তেই কি আমরা এক মহাজাগতিক নাটকের মঞ্চে বন্দি হয়ে গেছি? খুব সম্ভবত এই মুহূর্তে আপনার নিজের মনেও ঠিক এই বিষয় সম্পর্কিত নিচের প্রশ্নগুলো প্রতিনিয়ত গুরপাক খাচ্ছে। এমনকি এই লেখাটি পড়তে পড়তে আপনার মনে হতে পারে—আরে! এ তো অবিকল আমারই মনের কথা! এগুলো তো আমারই নিজের প্রশ্ন! তাই আর দেরি না করে, কোনো অন্ধত্ব বা গোঁড়ামি নয়, বরং নিরেট যুক্তি, আধুনিক বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব এবং পরম ঐশ্বরিক প্রজ্ঞার আলোকে আপনার মনের সমস্ত কনফিউশন বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করার এখনই উপযুক্ত সময়। আসুন, আমরা এমন ৩২টি গভীর, মনস্তাত্ত্বিক ও যুক্তিনির্ভর প্রশ্নের মুখোমুখি হই এবং অত্যন্ত সহজ ভাষায় এক চরম অকাট্য সত্যকে উন্মোচন করি, যা আমাদের চিরচেনা ভাবন...

কয়েক সেকেন্ডে দেওয়া তিন তালাক কি বৈধ? হিল্লা ও মুতা বিয়ে নিয়ে কোরআন-হাদিস কী বলে?

আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের পারিবারিক আইন, বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’ কিংবা প্রাচীন আরবের ‘মুতা বিয়ে’র মতো কিছু বিকৃত কুসংস্কারকে পুঁজি করে অনেকে ইসলামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান। কিন্তু আমরা কি কখনো মূল ইসলামিক উৎস অর্থাৎ পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিস সরাসরি ঘেঁটে দেখেছি যে, ইসলাম আসলে কী বলে? আসুন, আজ সম্পূর্ণ মার্জিত ও যৌক্তিক উপায়ে কোরআন-হাদিসের অকাট্য প্রমাণের আলোকে এই পুরো বিষয়টির একটি পরিষ্কার ব্যবচ্ছেদ করা যাক। হিল্লা ও মুতা বিয়ে: ইসলামে কি এদের কোনো স্থান আছে? প্রথমেই পরিষ্কার এবং কাটাকাটা ভাষায় জেনে রাখা ভালো— 'হিল্লা বিয়ে' এবং 'মুতা বিয়ে' দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইসলামী শরিয়তে এই দুটিই সম্পূর্ণ হারাম, নিষিদ্ধ ও অবৈধ। মুতা বিবাহ: এটি হলো নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন: ৩ দিন বা ১ মাস) জন্য চুক্তির ভিত্তিতে কোনো নারীর সাথে কেবল সাময়িক যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে বিয়ে করা, যা চুক্তির মেয়াদ শেষেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিবাহ ইসলাম তৈরি করেনি, এটি ছিল আরবের জাহেলিয়াত (অন্ধকার) যুগের একটি ...

যদি সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় হয় ও সব বিপদই তাঁর অনুমতিতে ঘটে, তবে মানুষের অপরাধের দায় কার?

মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের মনেই জীবন, জগৎ এবং এর পেছনের চালিকাশক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে যখন আমরা চারপাশে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখি কিংবা কোনো মানুষের করা চরম অন্যায় দেখি, তখন মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—" যদি একজন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর থাকেন, তবে পৃথিবীতে এত কষ্ট কেন? সবকিছু যদি তাঁর ইচ্ছায় চলে, তবে মানুষের অপরাধের জন্য মানুষকে কেন দায়ী করা হবে? " আসুন, আজ আমরা কোনো অন্ধ আবেগ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়া, সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক, বৈজ্ঞানিক এবং ইসলামিক দর্শনের অকাট্য দলিলের আলোকে এই প্রশ্নগুলোর গভীরে প্রবেশ করি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ: স্রষ্টার জুলুম নাকি মহাবিশ্ব টিকিয়ে রাখার অপরিহার্য মেকানিজম? কুরআনের সূরা আত-তাগাবুনের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।" আমরা যেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি (যেমন ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়), আধুনিক বিজ্ঞান কিন্তু এই দুর্যোগগুলোর পেছনের এক পরম সত্য উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞান বলছে, এগুলো আসলে কোনো ত্রুটি বা জুলুম নয়, বরং পৃথ...

স্রষ্টা সব জানলে দুনিয়ায় পরীক্ষা কেন? তাকদির, ভাগ্য বনাম স্বাধীন ইচ্ছা

আমাদের মনে প্রায়ই একটা প্রশ্ন উঁকি দেয়, যা নিয়ে অনেকের মাঝেই বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়।  প্রশ্নটা অনেকটা এইরকম: " স্রষ্টা যদি আগে থেকেই জানেন আমি জান্নাতে যাব নাকি জাহান্নামে, তাহলে দুনিয়াতে পাঠিয়ে এই পরীক্ষার কী দরকার ছিল? আমাদের ভাগ্য ও তাকদির যদি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তবে সরাসরি ভালো মানুষদের জান্নাতে আর খারাপ মানুষদের জাহান্নামে দিয়ে দিলেই তো হতো! " প্রথম দেখায় প্রশ্নটাকে খুব বুদ্ধিদীপ্ত মনে হতে পারে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করলে বুঝবেন, এই ধারণার গোড়াতেই একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি লুকিয়ে আছে। চলুন, আধুনিক বিজ্ঞান ও ডাইমেনশনের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে একদম সহজ ভাষায় এর আসল সমাধানটা জেনে নিই। ১. আগে থেকে জানা আর জোর করে করানো এক নয় সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝিটা হয় এখানেই। আমরা অনেকেই মনে করি, স্রষ্টা যেহেতু আগে থেকে আমাদের ভাগ্য জানেন বা তাকদিরে লিখে রেখেছেন, তাই হয়তো আমরা সেটাই করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে মোটেও তেমন নয়। স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা হলো তিনি সময়ের সীমানা পেরিয়ে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একসাথে দেখতে পান। আপনি ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন,...

কুরআনে কি আসলেই গণিতের ভুল আছে? উত্তরাধিকার আইনের গাণিতিক হিসাবে আসলে কী বলা হয়েছে?

কুরআন কিন্তু কোথাও ফিক্সড পার্সেন্টেজ বা দশমিকের হিসাব দেয়নি, বরং অংশীদারদের পারস্পরিক অনুপাত (Ratio) বা ভগ্নাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। কুরআনের ভগ্নাংশগুলো যদি আমরা একটু দেখি: মেয়েরা ২/৩,  বাবা ১/৬,  মা ১/৬ এবং  স্ত্রী ১/৮ গণিতের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আলাদা আলাদা ভগ্নাংশকে একসঙ্গে হিসাব করতে হলে প্রথমে তাদের হরগুলোর (নিচের সংখ্যাগুলোর) লসাগু (LCM) বের করতে হয়। ৩, ৬, ৬ এবং ৮ এর লসাগু হলো ২৪। এখন নিয়ম হলো, এই লসাগু (২৪) কে প্রতিটি ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে, ভাগফলকে উপরের সংখ্যা দিয়ে গুণ করা। সেই নিয়মে কার কত ভাগ আসে দেখুন: মেয়েরা পাবে: (২৪ ÷ ৩) × ২ = ১৬ ভাগ বাবা পাবেন: (২৪ ÷ ৬) × ১ = ৪ ভাগ মা পাবেন: (২৪ ÷ ৬) × ১ = ৪ ভাগ স্ত্রী পাবেন: (২৪ ÷ ৮) × ১ = ৩ ভাগ এখন এই সবগুলো ভাগ যোগ করলে মোট যোগফল হয়: ১৬ + ৪ + ৪ + ৩ = ২৭ ভাগ। সহজ কথায়, মূল সম্পত্তি ছিল ২৪ ভাগের, কিন্তু দাবিদারদের অনুপাতের মোট যোগফল হয়ে গেছে ২৭। এখন সম্পত্তি তো আর অলৌকিকভাবে টেনে বড় করা সম্ভব না, তাই গণিতের নিয়ম হলো, সবার পারস্পরিক অনুপাত ঠিক রেখে মূল সম্পত্তিকে ২৪ ভাগের বদলে ২৭ ভাগ করে ফেলা। যেমন ধরুন, একটি...

হযরত আয়েশার বিয়ের প্রকৃত বয়স কত? ১৮-২০ বছরে দাম্পত্য জীবন শুরু?

আমরা যারা মুসলিম, তারা সবাই নির্দ্বিধায় একটি কথা বিশ্বাস করি - পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে, তা একশত ভাগ সত্য এবং এর মধ্যে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনে একটি অত্যন্ত জরুরি কাজ করার সময় আমাদের অনেকেরই হয়ে ওঠে না। আর সেই কাজটি হলো পবিত্র কুরআনের বাণী ও বিধানগুলোকে বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা এবং যেকোনো তথ্যের সত্যতা কুরআনের কষ্টিপাথরে যাচাই করা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস সম্পর্কে সঠিক ও গভীর জ্ঞান না থাকার কারণে আমরা অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তির শিকার হই। কিছু মানুষ ইসলামের এই মূল উৎসগুলো থেকে আংশিক বা অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মনে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। দুঃখের বিষয় হলো, নিজেদের অজ্ঞতার কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে পাই না এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি। আজকের এই বিশেষ আর্টিকেলে আমরা তেমনই একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও profesonal ব্লগিং টপিক নিয়ে আলোচনা করব, যা প্রায়শই ইসলামবিদ্বেষী বা সংশয়বাদীরা উত্থাপন করে থাকে।  ইসলাম ও বিশ্বনবীর চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করার জন্য তারা যে...

আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
সত্য কথা
I have an interest in writing about the real truth of Islam. Study: I have completed BSC Engineering.