সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কয়েক সেকেন্ডে দেওয়া তিন তালাক কি বৈধ? হিল্লা ও মুতা বিয়ে নিয়ে কোরআন-হাদিস কী বলে?

আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের পারিবারিক আইন, বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’ কিংবা প্রাচীন আরবের ‘মুতা বিয়ে’র মতো কিছু বিকৃত কুসংস্কারকে পুঁজি করে অনেকে ইসলামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান। কিন্তু আমরা কি কখনো মূল ইসলামিক উৎস অর্থাৎ পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিস সরাসরি ঘেঁটে দেখেছি যে, ইসলাম আসলে কী বলে? আসুন, আজ সম্পূর্ণ মার্জিত ও যৌক্তিক উপায়ে কোরআন-হাদিসের অকাট্য প্রমাণের আলোকে এই পুরো বিষয়টির একটি পরিষ্কার ব্যবচ্ছেদ করা যাক।

হিল্লা ও মুতা বিয়ে: ইসলামে কি এদের কোনো স্থান আছে?

প্রথমেই পরিষ্কার এবং কাটাকাটা ভাষায় জেনে রাখা ভালো—'হিল্লা বিয়ে' এবং 'মুতা বিয়ে' দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইসলামী শরিয়তে এই দুটিই সম্পূর্ণ হারাম, নিষিদ্ধ ও অবৈধ।

মুতা বিবাহ: এটি হলো নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন: ৩ দিন বা ১ মাস) জন্য চুক্তির ভিত্তিতে কোনো নারীর সাথে কেবল সাময়িক যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে বিয়ে করা, যা চুক্তির মেয়াদ শেষেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিবাহ ইসলাম তৈরি করেনি, এটি ছিল আরবের জাহেলিয়াত (অন্ধকার) যুগের একটি প্রাচীন বর্বর কুসংস্কার। ইসলাম শুরুতে এটিকে অনুমোদন দেয়নি, বরং একটি সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে সমাজ থেকে চিরতরে উপড়ে ফেলেছে। যখন সমাজ একটি পবিত্র ও সুশৃঙ্খল পারিবারিক কাঠামো গ্রহণের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলো, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এই প্রথাটিকে চিরতরে কবর দিয়ে দেন।

খাইবারের যুদ্ধ (হিজরী ৭ম সন): রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথমবার খাইবার যুদ্ধের দিন মুতা বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ করেন (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৪২১৬)।

মক্কা বিজয় (হিজরী ৮ম সন): "...কিন্তু (জেনে রাখো) আল্লাহ তায়ালা মুতা (সাময়িক) বিবাহকে কেয়ামত পর্যন্ত চিরতরে হারাম করে দিয়েছেন।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৪০৬)

হিল্লা বিয়ে: কোনো নারী ৩য় বার চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর, সমাজ তাকে প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ করার উদ্দেশ্যে যে ‘পাতানো বা চুক্তিভিত্তিক মধ্যবর্তী বিয়ে’র নাটক সাজায়, তাকে হিল্লা বলা হয়। আল্লাহর আইনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য করা এই জঘন্য চাতুরীর বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান এতটাই কঠোর যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হালালকারী (যে ব্যক্তি হিল্লা বিয়ে করে) এবং যার জন্য হালাল করা হয় (আগের স্বামী)—তারা উভয়েই অভিশপ্ত (উভয়ের ওপর আল্লাহর লানত)-(সুনানে আবূ দাউদ হাদিস নম্বর ২০৭৬): আলবানী একাডেমী / আন্তর্জাতিক সংস্করণ।

১ম তালাক: রাগের মাথায় কয়েক সেকেন্ডের উচ্চারণ বনাম কোরআনের আদর্শ

পবিত্র কোরআনের মূল দর্শন ও সাধারণ নিয়ম হলো—বিবাহবিচ্ছেদ কোনো ছেলেখেলা নয়, এটি হতে হবে স্বামী-স্ত্রী দুই জনের পারস্পরিক সম্মতি, আলোচনা এবং সুন্দর বোঝাপড়ার মাধ্যমে। কিন্তু কোনো পুরুষ যদি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, আল্লাহর সেই সুন্দর শৃঙ্খলা ভেঙে রাগের মাথায় এক মুখ থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে "তালাক, তালাক, তালাক" বলে ফেলে, তবে শরিয়তের বাস্তবমুখী আইন কী বলে?

যেহেতু সে কোরআনের পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে, তাই সে আল্লাহর আইন অমান্য করার কারণে গুনাহের ভাগীদার হবে। তবে তার এই খামখেয়ালিপনার লাগাম টানতে এবং তাকে শাস্তির মুখোমুখি করতে আইনিভাবে এটিকে সর্বোচ্চ ১টি তালাক (১ম ধাপ) হিসেবে গণ্য করা হবে, ৩টি তালাক হিসেবে নয়। এই বিষয়ে ইসলামের মূল আইনি দলিলটি এসেছে সরাসরি পবিত্র কোরআনে। আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-বাকারাহ’র ২২৯ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ

অনুবাদ: "এই (ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগযুক্ত) তালাক হলো দুই পর্যায়ে (একবার একবার করে দুইবার)। অতঃপর (প্রতিটি পর্যায়ের পর সিদ্ধান্ত হবে) হয় নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরভাবে স্ত্রীকে রেখে দেওয়া, না হয় পরম অনুগ্রহ ও সদাচরণের সাথে তাকে মুক্ত করে দেওয়া।"

এখানে আল্লাহ তায়ালা শব্দ ব্যবহার করেছেন ‘মার্রাতান’ (مَرَّتَانِ)। আরবি ভাষাতত্ত্বে এটি ‘মার্রাহ’ (مرة) শব্দের দ্বিবচন, যার অর্থ "একবার একবার করে দুইবার" বা "দুইটি পৃথক ধাপে বা দীর্ঘ বিরতি দিয়ে"। এর অর্থ এই নয় যে এক সেকেন্ডে তিনবার ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করা।

এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে একই স্থানে বসে রাগের মাথায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পর পর তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করলেও কোরআনের নিয়মানুযায়ী তাকে ৩টি তালাক ধরা হতো না, বরং তাকে ‘একটি তালাক’ (১ম ধাপ) হিসেবেই গণ্য করে স্বামী-স্ত্রীকে চিন্তা করার জন্য একটি দীর্ঘ বিরতি দেওয়া হতো এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "...একসাথে দেওয়া তিন তালাককে 'একটি তালাক' হিসেবেই গণ্য করা হতো।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৭২)

ভুল সংশোধনের বৈপ্লবিক সুযোগ:

১ম তালাক কার্যকর হওয়ার পর আল্লাহ ওই দম্পতিকে ৩ মাস (ইদ্দতকাল) সময় দেন ঠান্ডা মাথায় ভাবার। এই ৩ মাসের মধ্যে যদি স্বামীর ভুল ভেঙে যায় এবং সে আবার একসাথে সংসার করতে চায়, তবে শরিয়তের ইনসাফ হলো—এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর পূর্ণ ইচ্ছা ও সম্মতি থাকতে হবে। কারণ স্বামী তাকে মুখে তালাক দিয়ে মানসিকভাবে অপমান করেছে। স্ত্রী যদি রাজি হয়, তবে তারা কোনো হিল্লা বা নতুন বিয়ে ছাড়াই সরাসরি আবার বৈবাহিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৮)। 

তবে কোনো কারণে যদি এই ৩ মাসের ইদ্দতকাল পার হয়ে যায়, তাহলেও ইসলামে ফিরে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায় না। ইদ্দত পার হয়ে যাওয়ার পর যদি কখনো ওই পুরুষ ও নারী আবার একসাথে ঘর বাঁধতে চায়, তবে কোনো হিল্লা বা অন্য পুরুষের সাথে পাতানো বিয়ের কুসংস্কার ছাড়াই তারা সরাসরি একে অপরকে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো—স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি থাকতে হবে এবং নতুন করে মোহরানা নির্ধারণ করে সম্পূর্ণ নতুন করে নিকাহ (বিয়ে) সম্পন্ন করতে হবে।

অতএব, ১ম তালাকের ক্ষেত্রে ৩ মাসের ভেতরে হোক বা ৩ মাস পরে—এই স্ত্রীকে কোথাও কোনো হিল্লা বা মুতা বিয়ে দিতে হবে না, কারণ এগুলো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অভিশপ্ত।

২য় তালাক: ভুলের পুনরাবৃত্তি ও শেষ সুযোগ

১ম তালাকের পর স্ত্রী রাজি হওয়ায় তারা আবার সংসার শুরু করল। কিন্তু কিছুদিন পর যদি কোনো কারণে সেই পুরুষটি আবারও একই খামখেয়ালিপনা করে কয়েক সেকেন্ডে মুখে তালাক উচ্চারণ করে বসে, তবে কোরআন বিরোধী এই কাজের জন্য শাস্তি হিসেবে এটি ২য় তালাক হিসেবে কাউন্ট হবে। ২য় তালাকের পরেও যদি সেই পুরুষ তার ভুল বুঝতে পারে, তবে ১ম তালাকের মতোই ৩ মাসের ইদ্দতের ভেতরে স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতে সে আবার সংসার শুরু করতে পারবে (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৯)। এখানেও স্ত্রীর ইচ্ছা থাকা বাধ্যতামূলক যে সে স্বামীর সাথে থাকবে কি না।

১ম তালাকের মতোই, ২য় তালাকের পরেও যদি ৩ মাসের ইদ্দতকাল পার হয়ে যায়, তবুও তাদের সামনে ফিরে আসার সুযোগ থাকে। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তারা যদি আবার এক হতে চায়, তবে কোনো হিল্লা বিয়ে ছাড়াই স্ত্রীর পূর্ণ স্বাধীন সম্মতিতে এবং নতুন করে মোহরানা ও বিয়ের (নিকাহ) আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে সরাসরি পুনরায় সংসার শুরু করতে পারবে। কারণ তখনও তাদের হাতে ৩য় তালাকের শেষ বাউন্ডারি লাইনের আগে আরেকটি সুযোগ বাকি রয়েছে।

৩য় তালাক: ‘রেড লাইন’ বা শেষ সীমানা পার করলে কী হবে?

পুরুষ যখন প্রথম ও দ্বিতীয়বারের মতো এত বড় সুযোগ পাওয়ার পরও শিক্ষা নিল না এবং আবারও ৩য় বার (চূড়ান্তভাবে) স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিল— তখন সে আল্লাহর দেওয়া পারিবারিক আইনি সীমানা (হুদুদুল্লাহ) পার করে ফেলল। এবার পুরুষের যতই তীব্র অনুশোচনা হোক না কেন, স্ত্রীও তাকে ক্ষমা করে দিতে চাক না কেন—পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতের অমোঘ আইন অনুযায়ী তারা দুজন চাইলেও আর সরাসরি কখনো নতুন করে বিয়ে করতে পারবে না। ওই নারী এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। সে স্বামীর জন্য আজীবনের জন্য ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ।

তাহলে উপায় কী?

এখানেই অনেকে ভুল বোঝে। ইসলাম কোনো নারীকে বলেনি যে আগের স্বামীর কাছে ফেরার জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করতেই হবে। নারী চাইলে আজীবন অবিবাহিত থাকতে পারেন বা অন্য কোথাও সুখে সংসার করতে পারেন। কিন্তু সেই নারী যদি প্রাকৃতিকভাবে অন্য কোথাও নতুন ও স্থায়ী সংসার শুরু করেন এবং কোনো পাতানো চুক্তি বা হিল্লা ছাড়া সম্পূর্ণ ভাগ্যের লিখনে বা স্বাভাবিক কারণে সেই দ্বিতীয় স্বামীও যদি মারা যান কিংবা তার সাথেও বিচ্ছেদ হয়ে যায়— কেবল তখনই সে যদি নিজে চায়, তবেই তার পুরনো স্বামীর কাছে ফেরার একটি আইনি সুযোগ তৈরি হয় (সূরা আল-বাকারাহ: ২৩০)।

স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে থাকতে না চান (খুলা অধিকার)

ইসলামে কি শুধু পুরুষেরই অধিকার? এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর কোনো অন্যায়, নির্যাতন কিংবা তীব্র মানসিক অপমানের কারণে তাঁর সাথে আর সংসার করতে না চান, তবে ইসলাম নারীকে ‘খুলা’ (Khula) এর মতো এমন এক বৈপ্লবিক আইনি অধিকার দিয়েছে, যার মাধ্যমে নারী নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে তাকে একা একা ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না; বরং আইনি আদালত বা সামাজিক মুরুব্বিদের সালিশি বোর্ডের দ্বারস্থ হতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হবে কেন সে স্বামীর সাথে থাকতে পারছে না (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৯, সহীহ বুখারী, হাদিস: ৫২৭৩)।

পুরুষের আইনি ও সুশৃঙ্খল তালাক পদ্ধতি

ঘরের কোণে বসে রাগের মাথায় কয়েক সেকেন্ডে মুখ ফুটে তালাক দেওয়া যেমন আল্লাহর আইনের লঙ্ঘন, ঠিক তেমনি একজন দায়িত্বশীল মুসলিম স্বামী যদি দেখে স্ত্রীর সাথে কোনোভাবেই আর সংসার করা সম্ভব নয়, তবে সে আদালত ও আইনের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল উপায়ে তালাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সেখানে তাকেও মুরুব্বি ও প্রশাসনের কাছে যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে যে সে কেন সম্পর্কটি এগিয়ে নিতে পারছে না। বর্তমান যুগের আইনি ডিভোর্স ব্যবস্থা (যেখানে নোটিশ পাঠাতে হয় এবং ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয়) মূলত ইসলামেরই দেওয়া সুশৃঙ্খল তালাক ব্যবস্থার (তালাক-ই-রাজঈ) একটি চমৎকার আধুনিক প্রশাসনিক রূপ।

মূল নির্যাস: বিবাহবিচ্ছেদে পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনের সামগ্রিক আইন (যেমন: সূরা নিসা: ৩৫ এবং সূরা বাকারা: ২২৯) সরাসরি বিশ্লেষণ করলে এটিই প্রমাণিত হয় যে, বিবাহবিচ্ছেদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয় পক্ষের সম্মতি, সামাজিক মুরুব্বিদের সালিশি এবং আদালতের আইনি তদারকি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ঘরের কোণে বসে কয়েক সেকেন্ডে রাগের মাথায় অন্ধের মতো ঘর ভাঙা সমর্থন করে না।
সমাজ যদি কোরআন ও সহীহ হাদিসের এই সুশৃঙ্খল, দূরদর্শী ও ভারসাম্যপূর্ণ আইনগুলো বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া কুসংস্কার বা ভুল ফতোয়া চর্চা করে, তবে তার দায় ইসলামের নয়, বরং সেই অসচেতন সমাজের।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইসলামে দাসী সহবাস কি বৈধ? যুদ্ধবন্দী নারীর আসল ইতিহাস!

আজকের একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক আইনের চশমা দিয়ে ৭ম শতকের প্রাচীন আরব সমাজকে বিচার করতে গেলে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট না জেনেই ঢালাও মন্তব্য ও হাসাহাসি করে। আসুন, সম্পূর্ণ যৌক্তিক, মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের আলোকে ক্রমানুসারে এই সত্যটি উন্মোচন করি। প্রাচীন বৈশ্বিক দাসপ্রথা বনাম ইসলামিক সংস্কার (এক নজরে পার্থক্য) অমুসলিম বিশ্বের নিষ্ঠুর দাসপ্রথা (জাহেলি, রোমান ও পার্সিয়ান নিয়ম) ইসলাম কর্তৃক সংস্কারকৃত দাসী প্রথার মানবিক সুবিধা ১. আজীবন দাসত্ব:  দাস-দাসীরা এবং তাদের অনাগত বংশধরেরা চিরকালের জন্য ক্রীতদাস হিসেবেই বেঁচে থাকতে বাধ্য হতো। ১. মুক্তির স্থায়ী মাস্টারপ্ল্যান:  ইসলাম মুক্তির অজস্র আইনি পথ (কাফফারা, যাকাতের খাত, মুকাতাবাহ চুক্তি) তৈরি করে দাসত্ব বিলুপ্তির পথ সুগম করে। ২. গণধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তি:  যুদ্ধবন্দী নারীদের, সৈন্যদের উন্মুক্ত বিনোদন বা পতিতালয়ে জোরপূর্বক ব্যবসার কাজে লাগানো হতো। ২. প্রাতিষ্ঠানিক একগামী সুরক্ষা:  একক মালিকানার মাধ্যমে গণধর্ষণ নিষিদ্ধ করে আজীবন ভরণপোষণ ও পারিবারিক সম্...

যদি সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় হয় ও সব বিপদই তাঁর অনুমতিতে ঘটে, তবে মানুষের অপরাধের দায় কার?

মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের মনেই জীবন, জগৎ এবং এর পেছনের চালিকাশক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে যখন আমরা চারপাশে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখি কিংবা কোনো মানুষের করা চরম অন্যায় দেখি, তখন মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—" যদি একজন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর থাকেন, তবে পৃথিবীতে এত কষ্ট কেন? সবকিছু যদি তাঁর ইচ্ছায় চলে, তবে মানুষের অপরাধের জন্য মানুষকে কেন দায়ী করা হবে? " আসুন, আজ আমরা কোনো অন্ধ আবেগ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়া, সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক, বৈজ্ঞানিক এবং ইসলামিক দর্শনের অকাট্য দলিলের আলোকে এই প্রশ্নগুলোর গভীরে প্রবেশ করি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ: স্রষ্টার জুলুম নাকি মহাবিশ্ব টিকিয়ে রাখার অপরিহার্য মেকানিজম? কুরআনের সূরা আত-তাগাবুনের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।" আমরা যেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি (যেমন ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়), আধুনিক বিজ্ঞান কিন্তু এই দুর্যোগগুলোর পেছনের এক পরম সত্য উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞান বলছে, এগুলো আসলে কোনো ত্রুটি বা জুলুম নয়, বরং পৃথ...

কে গাণিতিক হিসাবে এগিয়ে? সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী না সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী! [অংক ও সমাধান]

কাল্পনিক দুইটি নাম (রাহি, মাশা) দিয়ে একটি অংক বুঝার চেষ্টা করি যেখানে আমরা বুঝতে পারব সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ও সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীর মধ্যে কে বেশি লাভবানঃ ধরি, মাশা = সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী রাহি = সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী মাশার স্ত্রীর নাম = মাহি রাহির স্ত্রীর নাম = রানু বি. দ্রঃ রাহি ও মাশা একটি কোম্পানিতে প্রায় একই বয়সে (ধরি, ২৫ বছর বয়সে) একই সাথে খুব ছোট পোস্টে যোগদান  করে (কারণ তাদের পড়াশুনা খুবই কম ছিল) এবং তাদের বেতন সমান। পড়াশুনা খুবই কম থাকার কারণে তাদের বছরের পর বছর কাজ করার পরেও কোন প্রমোশন হচ্ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করার ফলে কোন ভয় না করে মাশা চাকরির পাশাপাশি অল্প কিছু টাকা দিয়ে সুদের ব‍্যবসা সহ লোক ঠকানোর কাজ শুরু করল এবং এই অবৈধ ব‍্যবসা থেকে আস্তে আস্তে লাভও হতে শুরু করল। অপরদিকে, সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করার কারণে রাহি চাকরির পাশাপাশি নিজে কষ্ট করে হলেও গরিবদের সাহায্য করত, সৎ পথে চলত, সুদ থেকে দূরে থাকত, কোনো হারাম আয় করত না এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলত। রানু ও মাহি বান্ধবী। হঠাৎ তারা কি মনে করে একটি সিদ্ধান্তে আসল। সিদ্ধান্তটি হল, যদি...

সৃষ্টিকর্তা কি জোর করে আমাদের এই পৃথিবীর পরীক্ষায় ফেলেছেন, নাকি জন্মের আগেই আমাদের রূহ সবকিছু জেনেবুঝে তাঁর সাথে চুক্তি করেছিল?

মহাবিশ্বের এক পরম করুণাময়, সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞ সত্তা হিসেবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে যখন আমরা চিন্তা করি, তখন আমাদের অবচেতন মনেই বেশ কিছু প্রশ্ন ও খটকা এসে ভিড় জমায়। আমরা অনেকেই হয়তো মুখে প্রকাশ করতে পারি না, কিন্তু একান্তে যখন নিজের বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়াই, তখন এই প্রশ্নগুলো আমাদের মনকে আলোড়িত করে। হয়তো আপনিও কখনো না কখনো একা বসে ভেবেছেন—আমি কেন এই পৃথিবীতে এলাম? নিজের অজান্তেই কি আমরা এক মহাজাগতিক নাটকের মঞ্চে বন্দি হয়ে গেছি? খুব সম্ভবত এই মুহূর্তে আপনার নিজের মনেও ঠিক এই বিষয় সম্পর্কিত নিচের প্রশ্নগুলো প্রতিনিয়ত গুরপাক খাচ্ছে। এমনকি এই লেখাটি পড়তে পড়তে আপনার মনে হতে পারে—আরে! এ তো অবিকল আমারই মনের কথা! এগুলো তো আমারই নিজের প্রশ্ন! তাই আর দেরি না করে, কোনো অন্ধত্ব বা গোঁড়ামি নয়, বরং নিরেট যুক্তি, আধুনিক বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব এবং পরম ঐশ্বরিক প্রজ্ঞার আলোকে আপনার মনের সমস্ত কনফিউশন বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করার এখনই উপযুক্ত সময়। আসুন, আমরা এমন ৩২টি গভীর, মনস্তাত্ত্বিক ও যুক্তিনির্ভর প্রশ্নের মুখোমুখি হই এবং অত্যন্ত সহজ ভাষায় এক চরম অকাট্য সত্যকে উন্মোচন করি, যা আমাদের চিরচেনা ভাবনার জগ...

ইসলামে কি মুখ ঢাকা বাধ্যতামূলক? হিজাবের সঠিক নিয়ম, পর্দা করার হাদিস

আচ্ছা, একটা ছোট ধাঁধা দিয়ে শুরু করা যাক। ধরুন, আপনি বাজার থেকে আপনার লাইফের সবচেয়ে দামী আর ব্র্যান্ড নিউ আইফোনটা কিনে আনলেন। এখন ফোনটাকে স্ক্র্যাচ আর চোরের নজর থেকে বাঁচাতে আপনি কি একটা দামী ব্যাক-কভার আর গরিলা গ্লাস লাগাবেন, নাকি ফোনটা নগ্ন অবস্থায় পকেটে রেখে দেবেন? উত্তরটা আমরা সবাই জানি। অথচ, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এসে যখন মুসলিম নারীর সম্মান আর সুরক্ষার প্রশ্ন ওঠে, তখন oneke দাবি korte paren, ইসলামে মুসলিম নারীদের চুল বা মাথা ঢাকার নির্দেশ থাকলেও ‘নিকাব’ ( মুখ, hat, pa, etc. ঢেকে) করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই!" তারা কুরআনের সূরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াত দেখিয়ে bolte paren, আল্লাহ তো আয়াতে সরাসরি ‘মুখ’ শব্দটা বলেননি! প্রথম দেখায় এই কথাগুলোকে অনেকের কাছে খুব প্রগতিশীল আর লজিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু আজ আমরা কোনো অন্ধ বিশ্বাস থেকে নয়, বরং একদম চোখ-কান খোলা রেখে খাঁটি লজিক আর কিছু বম-শেল সহীহ হাদিস দিয়ে এই থিওরির পেছনের মারাত্মক ফাঁকিটা ধরব। প্রমিজ করছি, আগামী ৫ মিনিট আপনার জীবনের অন্যতম সেরা একটি রিডিং এক্সপেরিয়েন্স হতে যাচ্ছে। ১. ‘সৌন্দর্য প্রকাশ না করার’ মনস্তাত্...

ইসলাম ধর্ম দাসপ্রথাকে কিভাবে মানবিক করেছে

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকেরই ইসলামে দাস দাসী নিয়ে খারাপ ধারণা আছে আবার এমন অনেকে আছেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন থেকে জবাব দিতে পারি না এমনকি হুজুরের জবাবেও মনে শান্তি পাই না। এর ফলে আস্তে আস্তে অনেকেরই ইসলামের প্রতি বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তারা ধৈর্য্য সহকারে এই লেখাটি পড়ার অনুরোধ রইল আশা করি এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা আসবে এবং inshAllah, অন্যকে বিভ্রান্ত থেকে বাঁচাতে পারবেন। ইসলাম দাস প্রথার প্রবর্তক নয়; খুব সম্ভবত সেই আদিম বর্বরতার যুগে দাস প্রথার উৎপত্তি হয়েছিল এবং তা লিখিত ইতিহাসের পুরোটা ব্যাপী বিশ্বের প্রধান প্রধান সভ্যতার বৈশিষ্ট্য ছিল। দাস প্রথা ব্যাবিলনিয়া এবং মেসোপটেমিয়াতেও প্রচলিত ছিল। খ্রিস্টান ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে প্রাচীন মিশর, গ্রীস ও রোমিও দাস প্রথা বিশেষ লক্ষনীয় ছিল। দাসত্ব (ইংরেজি: Slavery বা Thralldom) বলতে বোঝায় কোনো মানুষকে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা, এবং এক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত দুই ভাবে দাস দাসী হয়। যেমনঃ ✅ একঃ অভাব, দুর্ভিক্ষ, নদী ভাঙন, পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যু প্রভৃতি দুর্যোগ কবলিত ব্...

স্রষ্টা সব জানলে দুনিয়ায় পরীক্ষা কেন? তাকদির, ভাগ্য বনাম স্বাধীন ইচ্ছা

আমাদের মনে প্রায়ই একটা প্রশ্ন উঁকি দেয়, যা নিয়ে অনেকের মাঝেই বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়।  প্রশ্নটা অনেকটা এইরকম: " স্রষ্টা যদি আগে থেকেই জানেন আমি জান্নাতে যাব নাকি জাহান্নামে, তাহলে দুনিয়াতে পাঠিয়ে এই পরীক্ষার কী দরকার ছিল? আমাদের ভাগ্য ও তাকদির যদি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তবে সরাসরি ভালো মানুষদের জান্নাতে আর খারাপ মানুষদের জাহান্নামে দিয়ে দিলেই তো হতো! " প্রথম দেখায় প্রশ্নটাকে খুব বুদ্ধিদীপ্ত মনে হতে পারে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করলে বুঝবেন, এই ধারণার গোড়াতেই একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি লুকিয়ে আছে। চলুন, আধুনিক বিজ্ঞান ও ডাইমেনশনের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে একদম সহজ ভাষায় এর আসল সমাধানটা জেনে নিই। ১. আগে থেকে জানা আর জোর করে করানো এক নয় সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝিটা হয় এখানেই। আমরা অনেকেই মনে করি, স্রষ্টা যেহেতু আগে থেকে আমাদের ভাগ্য জানেন বা তাকদিরে লিখে রেখেছেন, তাই হয়তো আমরা সেটাই করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে মোটেও তেমন নয়। স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা হলো তিনি সময়ের সীমানা পেরিয়ে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একসাথে দেখতে পান। আপনি ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন,...

নাস্তিকদের নাস্তিক হওয়ার কারণগুলো কি কি? [৪টি বক্তব্য]

1. প্রথম নাস্তিকের বক্তব্য: প্রথম বক্তব্যের জবাব : মানুষের দেখার একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে যেমন সব মানুষই এক থেকে তিন ডাইমেনশন পর্যন্ত যে কোন জিনিসের অস্তিত্ব দেখতে পারে. এইরকম আরো অনেক ডাইমেনশন আছে যেমন four ডাইমেনশন থেকে আনলিমিটেড ডাইমেনশন.  উদাহরণস্বরূপ ওয়ান  ডাইমেনশন এবং two ডাইমেনশনের কোন  প্রাণী three ডাইমেনসনের কোন  প্রাণীকে দেখতে পারবে না কিন্তু three ডাইমেনশন এর কোন  প্রাণী,  two ডাইমেনশন এবং one  ডাইমেনশনের  প্রাণীকে দেখতে পারবে. মানুষের দেখার সীমা three ডাইমেনশন পর্যন্ত তাই upper and unlimited ডাইমেনশনের  কোন কিছুর অস্তিত্ব মানুষ দেখতে পারবে না. N.B: সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এতই শক্তিশালী যে তিনি এই ডাইমেনশনের ঊর্ধ্বে. তাই কোন মানুষের পক্ষে তাকে সরাসরি দেখা সম্ভব নয় কিন্তু ডাইমেনশনের ঊর্ধ্বে হওয়ার কারণে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা সবাইকেই পর্যবেক্ষণ করতে পারেন . N.B: এটা আমার ব্যক্তিগত যুক্তি আপনি ইচ্ছা করলে আরো গবেষণা করে দেখতে পারেন. ধন্যবাদ. মানুষের মস্তিষ্ক আরাম প্রিয় এবং সুন্দর জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে. আপনার যদি...

কেন ! মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী বলা যাবে না!

আমরা যারা মুসলিম সবাই এই একটি কথা অবশ্যই বিশ্বাস করি সেটা হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা একশত ভাগ সত্য। কিন্তু অবশ্যই কর্তব্য এমন একটি কাজ আছে যেটা করার সময় আমাদের  অনেকেরই হয় না আমাদের দৈনন্দিন ব‍্যস্ততার কারণে। আর সেই কাজটি হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ করা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস ঠিক মত না জানার কারণে আমরা অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হই কিছু মানুষের দ্বারা যারা পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা সঠিকভাবে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস না জানার কারণে এই বিভ্রান্তির শিকার হই। অনেক বিভ্রান্তিকর প্রশ্নগুলোর মধ‍্যে একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন যেটা ইনশাআল্লাহ আজকে আলোচনা করব। প্রশ্নঃ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কি শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী ছিলেন? উত্তরঃ মূল বক্তব্যঃ রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের সময় সাহাবীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ চৌদ্দ হাজার। তাদের সব সময় রাসূল (সা.) এর কাছে থেকে তাঁর সকল কথা শুনা বা সকল কাজ দেখা সম্ভব ছিল না। তাই অধিকাংশ সাহাবীর জানা থাকা হাদীসের মধ্যে কিছু ছিল রাসূল (সা.) এর নিকট থেকে সরাসরি শুনা বা...

আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
সত্য কথা
I have an interest in writing about the real truth of Islam. Study: I have completed BSC Engineering.