সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কয়েক সেকেন্ডে দেওয়া তিন তালাক কি বৈধ? হিল্লা ও মুতা বিয়ে নিয়ে কোরআন-হাদিস কী বলে?

আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের পারিবারিক আইন, বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’ কিংবা প্রাচীন আরবের ‘মুতা বিয়ে’র মতো কিছু বিকৃত কুসংস্কারকে পুঁজি করে অনেকে ইসলামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান। কিন্তু আমরা কি কখনো মূল ইসলামিক উৎস অর্থাৎ পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিস সরাসরি ঘেঁটে দেখেছি যে, ইসলাম আসলে কী বলে? আসুন, আজ সম্পূর্ণ মার্জিত ও যৌক্তিক উপায়ে কোরআন-হাদিসের অকাট্য প্রমাণের আলোকে এই পুরো বিষয়টির একটি পরিষ্কার ব্যবচ্ছেদ করা যাক।

হিল্লা ও মুতা বিয়ে: ইসলামে কি এদের কোনো স্থান আছে?

প্রথমেই পরিষ্কার এবং কাটাকাটা ভাষায় জেনে রাখা ভালো—'হিল্লা বিয়ে' এবং 'মুতা বিয়ে' দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইসলামী শরিয়তে এই দুটিই সম্পূর্ণ হারাম, নিষিদ্ধ ও অবৈধ।

মুতা বিবাহ: এটি হলো নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন: ৩ দিন বা ১ মাস) জন্য চুক্তির ভিত্তিতে কোনো নারীর সাথে কেবল সাময়িক যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে বিয়ে করা, যা চুক্তির মেয়াদ শেষেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিবাহ ইসলাম তৈরি করেনি, এটি ছিল আরবের জাহেলিয়াত (অন্ধকার) যুগের একটি প্রাচীন বর্বর কুসংস্কার। ইসলাম শুরুতে এটিকে অনুমোদন দেয়নি, বরং একটি সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে সমাজ থেকে চিরতরে উপড়ে ফেলেছে। যখন সমাজ একটি পবিত্র ও সুশৃঙ্খল পারিবারিক কাঠামো গ্রহণের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হলো, তখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এই প্রথাটিকে চিরতরে কবর দিয়ে দেন।

খাইবারের যুদ্ধ (হিজরী ৭ম সন): রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রথমবার খাইবার যুদ্ধের দিন মুতা বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ করেন (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৪২১৬)।

মক্কা বিজয় (হিজরী ৮ম সন): "...কিন্তু (জেনে রাখো) আল্লাহ তায়ালা মুতা (সাময়িক) বিবাহকে কেয়ামত পর্যন্ত চিরতরে হারাম করে দিয়েছেন।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৪০৬)

হিল্লা বিয়ে: কোনো নারী ৩য় বার চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর, সমাজ তাকে প্রথম স্বামীর জন্য বৈধ করার উদ্দেশ্যে যে ‘পাতানো বা চুক্তিভিত্তিক মধ্যবর্তী বিয়ে’র নাটক সাজায়, তাকে হিল্লা বলা হয়। আল্লাহর আইনকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য করা এই জঘন্য চাতুরীর বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান এতটাই কঠোর যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "হালালকারী (যে ব্যক্তি হিল্লা বিয়ে করে) এবং যার জন্য হালাল করা হয় (আগের স্বামী)—তারা উভয়েই অভিশপ্ত (উভয়ের ওপর আল্লাহর লানত)-(সুনানে আবূ দাউদ হাদিস নম্বর ২০৭৬): আলবানী একাডেমী / আন্তর্জাতিক সংস্করণ।

১ম তালাক: রাগের মাথায় কয়েক সেকেন্ডের উচ্চারণ বনাম কোরআনের আদর্শ

পবিত্র কোরআনের মূল দর্শন ও সাধারণ নিয়ম হলো—বিবাহবিচ্ছেদ কোনো ছেলেখেলা নয়, এটি হতে হবে স্বামী-স্ত্রী দুই জনের পারস্পরিক সম্মতি, আলোচনা এবং সুন্দর বোঝাপড়ার মাধ্যমে। কিন্তু কোনো পুরুষ যদি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, আল্লাহর সেই সুন্দর শৃঙ্খলা ভেঙে রাগের মাথায় এক মুখ থেকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে "তালাক, তালাক, তালাক" বলে ফেলে, তবে শরিয়তের বাস্তবমুখী আইন কী বলে?

যেহেতু সে কোরআনের পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে, তাই সে আল্লাহর আইন অমান্য করার কারণে গুনাহের ভাগীদার হবে। তবে তার এই খামখেয়ালিপনার লাগাম টানতে এবং তাকে শাস্তির মুখোমুখি করতে আইনিভাবে এটিকে সর্বোচ্চ ১টি তালাক (১ম ধাপ) হিসেবে গণ্য করা হবে, ৩টি তালাক হিসেবে নয়। এই বিষয়ে ইসলামের মূল আইনি দলিলটি এসেছে সরাসরি পবিত্র কোরআনে। আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-বাকারাহ’র ২২৯ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন:
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ

অনুবাদ: "এই (ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগযুক্ত) তালাক হলো দুই পর্যায়ে (একবার একবার করে দুইবার)। অতঃপর (প্রতিটি পর্যায়ের পর সিদ্ধান্ত হবে) হয় নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরভাবে স্ত্রীকে রেখে দেওয়া, না হয় পরম অনুগ্রহ ও সদাচরণের সাথে তাকে মুক্ত করে দেওয়া।"

এখানে আল্লাহ তায়ালা শব্দ ব্যবহার করেছেন ‘মার্রাতান’ (مَرَّتَانِ)। আরবি ভাষাতত্ত্বে এটি ‘মার্রাহ’ (مرة) শব্দের দ্বিবচন, যার অর্থ "একবার একবার করে দুইবার" বা "দুইটি পৃথক ধাপে বা দীর্ঘ বিরতি দিয়ে"। এর অর্থ এই নয় যে এক সেকেন্ডে তিনবার ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করা।

এই কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে একই স্থানে বসে রাগের মাথায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পর পর তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করলেও কোরআনের নিয়মানুযায়ী তাকে ৩টি তালাক ধরা হতো না, বরং তাকে ‘একটি তালাক’ (১ম ধাপ) হিসেবেই গণ্য করে স্বামী-স্ত্রীকে চিন্তা করার জন্য একটি দীর্ঘ বিরতি দেওয়া হতো এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "...একসাথে দেওয়া তিন তালাককে 'একটি তালাক' হিসেবেই গণ্য করা হতো।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৭২)

ভুল সংশোধনের বৈপ্লবিক সুযোগ:

১ম তালাক কার্যকর হওয়ার পর আল্লাহ ওই দম্পতিকে ৩ মাস (ইদ্দতকাল) সময় দেন ঠান্ডা মাথায় ভাবার। এই ৩ মাসের মধ্যে যদি স্বামীর ভুল ভেঙে যায় এবং সে আবার একসাথে সংসার করতে চায়, তবে শরিয়তের ইনসাফ হলো—এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর পূর্ণ ইচ্ছা ও সম্মতি থাকতে হবে। কারণ স্বামী তাকে মুখে তালাক দিয়ে মানসিকভাবে অপমান করেছে। স্ত্রী যদি রাজি হয়, তবে তারা কোনো হিল্লা বা নতুন বিয়ে ছাড়াই সরাসরি আবার বৈবাহিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৮)। 

তবে কোনো কারণে যদি এই ৩ মাসের ইদ্দতকাল পার হয়ে যায়, তাহলেও ইসলামে ফিরে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায় না। ইদ্দত পার হয়ে যাওয়ার পর যদি কখনো ওই পুরুষ ও নারী আবার একসাথে ঘর বাঁধতে চায়, তবে কোনো হিল্লা বা অন্য পুরুষের সাথে পাতানো বিয়ের কুসংস্কার ছাড়াই তারা সরাসরি একে অপরকে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো—স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি থাকতে হবে এবং নতুন করে মোহরানা নির্ধারণ করে সম্পূর্ণ নতুন করে নিকাহ (বিয়ে) সম্পন্ন করতে হবে।

অতএব, ১ম তালাকের ক্ষেত্রে ৩ মাসের ভেতরে হোক বা ৩ মাস পরে—এই স্ত্রীকে কোথাও কোনো হিল্লা বা মুতা বিয়ে দিতে হবে না, কারণ এগুলো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অভিশপ্ত।

২য় তালাক: ভুলের পুনরাবৃত্তি ও শেষ সুযোগ

১ম তালাকের পর স্ত্রী রাজি হওয়ায় তারা আবার সংসার শুরু করল। কিন্তু কিছুদিন পর যদি কোনো কারণে সেই পুরুষটি আবারও একই খামখেয়ালিপনা করে কয়েক সেকেন্ডে মুখে তালাক উচ্চারণ করে বসে, তবে কোরআন বিরোধী এই কাজের জন্য শাস্তি হিসেবে এটি ২য় তালাক হিসেবে কাউন্ট হবে। ২য় তালাকের পরেও যদি সেই পুরুষ তার ভুল বুঝতে পারে, তবে ১ম তালাকের মতোই ৩ মাসের ইদ্দতের ভেতরে স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতে সে আবার সংসার শুরু করতে পারবে (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৯)। এখানেও স্ত্রীর ইচ্ছা থাকা বাধ্যতামূলক যে সে স্বামীর সাথে থাকবে কি না।

১ম তালাকের মতোই, ২য় তালাকের পরেও যদি ৩ মাসের ইদ্দতকাল পার হয়ে যায়, তবুও তাদের সামনে ফিরে আসার সুযোগ থাকে। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তারা যদি আবার এক হতে চায়, তবে কোনো হিল্লা বিয়ে ছাড়াই স্ত্রীর পূর্ণ স্বাধীন সম্মতিতে এবং নতুন করে মোহরানা ও বিয়ের (নিকাহ) আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে সরাসরি পুনরায় সংসার শুরু করতে পারবে। কারণ তখনও তাদের হাতে ৩য় তালাকের শেষ বাউন্ডারি লাইনের আগে আরেকটি সুযোগ বাকি রয়েছে।

৩য় তালাক: ‘রেড লাইন’ বা শেষ সীমানা পার করলে কী হবে?

পুরুষ যখন প্রথম ও দ্বিতীয়বারের মতো এত বড় সুযোগ পাওয়ার পরও শিক্ষা নিল না এবং আবারও ৩য় বার (চূড়ান্তভাবে) স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিল— তখন সে আল্লাহর দেওয়া পারিবারিক আইনি সীমানা (হুদুদুল্লাহ) পার করে ফেলল। এবার পুরুষের যতই তীব্র অনুশোচনা হোক না কেন, স্ত্রীও তাকে ক্ষমা করে দিতে চাক না কেন—পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতের অমোঘ আইন অনুযায়ী তারা দুজন চাইলেও আর সরাসরি কখনো নতুন করে বিয়ে করতে পারবে না। ওই নারী এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। সে স্বামীর জন্য আজীবনের জন্য ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ।

তাহলে উপায় কী?

এখানেই অনেকে ভুল বোঝে। ইসলাম কোনো নারীকে বলেনি যে আগের স্বামীর কাছে ফেরার জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করতেই হবে। নারী চাইলে আজীবন অবিবাহিত থাকতে পারেন বা অন্য কোথাও সুখে সংসার করতে পারেন। কিন্তু সেই নারী যদি প্রাকৃতিকভাবে অন্য কোথাও নতুন ও স্থায়ী সংসার শুরু করেন এবং কোনো পাতানো চুক্তি বা হিল্লা ছাড়া সম্পূর্ণ ভাগ্যের লিখনে বা স্বাভাবিক কারণে সেই দ্বিতীয় স্বামীও যদি মারা যান কিংবা তার সাথেও বিচ্ছেদ হয়ে যায়— কেবল তখনই সে যদি নিজে চায়, তবেই তার পুরনো স্বামীর কাছে ফেরার একটি আইনি সুযোগ তৈরি হয় (সূরা আল-বাকারাহ: ২৩০)।

স্ত্রী যদি স্বামীর সাথে থাকতে না চান (খুলা অধিকার)

ইসলামে কি শুধু পুরুষেরই অধিকার? এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর কোনো অন্যায়, নির্যাতন কিংবা তীব্র মানসিক অপমানের কারণে তাঁর সাথে আর সংসার করতে না চান, তবে ইসলাম নারীকে ‘খুলা’ (Khula) এর মতো এমন এক বৈপ্লবিক আইনি অধিকার দিয়েছে, যার মাধ্যমে নারী নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে তাকে একা একা ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না; বরং আইনি আদালত বা সামাজিক মুরুব্বিদের সালিশি বোর্ডের দ্বারস্থ হতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হবে কেন সে স্বামীর সাথে থাকতে পারছে না (সূরা আল-বাকারাহ: ২২৯, সহীহ বুখারী, হাদিস: ৫২৭৩)।

পুরুষের আইনি ও সুশৃঙ্খল তালাক পদ্ধতি

ঘরের কোণে বসে রাগের মাথায় কয়েক সেকেন্ডে মুখ ফুটে তালাক দেওয়া যেমন আল্লাহর আইনের লঙ্ঘন, ঠিক তেমনি একজন দায়িত্বশীল মুসলিম স্বামী যদি দেখে স্ত্রীর সাথে কোনোভাবেই আর সংসার করা সম্ভব নয়, তবে সে আদালত ও আইনের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল উপায়ে তালাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সেখানে তাকেও মুরুব্বি ও প্রশাসনের কাছে যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে যে সে কেন সম্পর্কটি এগিয়ে নিতে পারছে না। বর্তমান যুগের আইনি ডিভোর্স ব্যবস্থা (যেখানে নোটিশ পাঠাতে হয় এবং ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয়) মূলত ইসলামেরই দেওয়া সুশৃঙ্খল তালাক ব্যবস্থার (তালাক-ই-রাজঈ) একটি চমৎকার আধুনিক প্রশাসনিক রূপ।

মূল নির্যাস: বিবাহবিচ্ছেদে পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনের সামগ্রিক আইন (যেমন: সূরা নিসা: ৩৫ এবং সূরা বাকারা: ২২৯) সরাসরি বিশ্লেষণ করলে এটিই প্রমাণিত হয় যে, বিবাহবিচ্ছেদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয় পক্ষের সম্মতি, সামাজিক মুরুব্বিদের সালিশি এবং আদালতের আইনি তদারকি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ঘরের কোণে বসে কয়েক সেকেন্ডে রাগের মাথায় অন্ধের মতো ঘর ভাঙা সমর্থন করে না।
সমাজ যদি কোরআন ও সহীহ হাদিসের এই সুশৃঙ্খল, দূরদর্শী ও ভারসাম্যপূর্ণ আইনগুলো বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া কুসংস্কার বা ভুল ফতোয়া চর্চা করে, তবে তার দায় ইসলামের নয়, বরং সেই অসচেতন সমাজের।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কেন ! মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী বলা যাবে না!

আমরা যারা মুসলিম সবাই এই একটি কথা অবশ্যই বিশ্বাস করি সেটা হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা একশত ভাগ সত্য। কিন্তু অবশ্যই কর্তব্য এমন একটি কাজ আছে যেটা করার সময় আমাদের  অনেকেরই হয় না আমাদের দৈনন্দিন ব‍্যস্ততার কারণে। আর সেই কাজটি হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ করা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস ঠিক মত না জানার কারণে আমরা অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হই কিছু মানুষের দ্বারা যারা পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা সঠিকভাবে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস না জানার কারণে এই বিভ্রান্তির শিকার হই। অনেক বিভ্রান্তিকর প্রশ্নগুলোর মধ‍্যে একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন যেটা ইনশাআল্লাহ আজকে আলোচনা করব। প্রশ্নঃ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কি শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী ছিলেন? উত্তরঃ মূল বক্তব্যঃ রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের সময় সাহাবীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ চৌদ্দ হাজার। তাদের সব সময় রাসূল (সা.) এর কাছে থেকে তাঁর সকল কথা শুনা বা সকল কাজ দেখা সম্ভব ছিল না। তাই অধিকাংশ সাহাবীর জানা থাকা হাদীসের মধ্যে কিছু ছিল রাসূল (সা.) এর নিকট থেকে সরাসরি শুনা বা...

ইসলাম ধর্ম দাসপ্রথাকে কিভাবে মানবিক করেছে

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকেরই ইসলামে দাস দাসী নিয়ে খারাপ ধারণা আছে আবার এমন অনেকে আছেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন থেকে জবাব দিতে পারি না এমনকি হুজুরের জবাবেও মনে শান্তি পাই না। এর ফলে আস্তে আস্তে অনেকেরই ইসলামের প্রতি বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তারা ধৈর্য্য সহকারে এই লেখাটি পড়ার অনুরোধ রইল আশা করি এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা আসবে এবং inshAllah, অন্যকে বিভ্রান্ত থেকে বাঁচাতে পারবেন। ইসলাম দাস প্রথার প্রবর্তক নয়; খুব সম্ভবত সেই আদিম বর্বরতার যুগে দাস প্রথার উৎপত্তি হয়েছিল এবং তা লিখিত ইতিহাসের পুরোটা ব্যাপী বিশ্বের প্রধান প্রধান সভ্যতার বৈশিষ্ট্য ছিল। দাস প্রথা ব্যাবিলনিয়া এবং মেসোপটেমিয়াতেও প্রচলিত ছিল। খ্রিস্টান ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে প্রাচীন মিশর, গ্রীস ও রোমিও দাস প্রথা বিশেষ লক্ষনীয় ছিল। দাসত্ব (ইংরেজি: Slavery বা Thralldom) বলতে বোঝায় কোনো মানুষকে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা, এবং এক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত দুই ভাবে দাস দাসী হয়। যেমনঃ ✅ একঃ অভাব, দুর্ভিক্ষ, নদী ভাঙন, পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যু প্রভৃতি দুর্যোগ কবলিত ব্...

কে গাণিতিক হিসাবে এগিয়ে? সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী না সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী! [অংক ও সমাধান]

কাল্পনিক দুইটি নাম (রাহি, মাশা) দিয়ে একটি অংক বুঝার চেষ্টা করি যেখানে আমরা বুঝতে পারব সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ও সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীর মধ্যে কে বেশি লাভবানঃ ধরি, মাশা = সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী রাহি = সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী মাশার স্ত্রীর নাম = মাহি রাহির স্ত্রীর নাম = রানু বি. দ্রঃ রাহি ও মাশা একটি কোম্পানিতে প্রায় একই বয়সে (ধরি, ২৫ বছর বয়সে) একই সাথে খুব ছোট পোস্টে যোগদান  করে (কারণ তাদের পড়াশুনা খুবই কম ছিল) এবং তাদের বেতন সমান। পড়াশুনা খুবই কম থাকার কারণে তাদের বছরের পর বছর কাজ করার পরেও কোন প্রমোশন হচ্ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করার ফলে কোন ভয় না করে মাশা চাকরির পাশাপাশি অল্প কিছু টাকা দিয়ে সুদের ব‍্যবসা সহ লোক ঠকানোর কাজ শুরু করল এবং এই অবৈধ ব‍্যবসা থেকে আস্তে আস্তে লাভও হতে শুরু করল। অপরদিকে, সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করার কারণে রাহি চাকরির পাশাপাশি নিজে কষ্ট করে হলেও গরিবদের সাহায্য করত, সৎ পথে চলত, সুদ থেকে দূরে থাকত, কোনো হারাম আয় করত না এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলত। রানু ও মাহি বান্ধবী। হঠাৎ তারা কি মনে করে একটি সিদ্ধান্তে আসল। সিদ্ধান্তটি হল, যদি...

কেন সৃষ্টিকর্তার বা আল্লাহর বা ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ জানা জরুরী?

অনেকেই আপনাকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে এমনকি আপনার নিজেরও হঠাৎ সন্দেহ হতে পারে সৃষ্টিকর্তা আছে কি নাই। 💎 ইসলামিক যুক্তিঃ 💭 হযরত ইমাম আবু হানিফার একটা ঘটনা, একদিন বিতর্ক অনুষ্ঠানে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যে তাকে দাওয়াত করা হয়েছিল তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেক বিলম্বে সভাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় তাকে প্রশ্ন করা হলো, আপনি এত দেরিতে কেন আসলেন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন আমার আসার পথে একটা নদী থাকায় ও নদীতে কোনো নৌকা ও মাঝি না থাকায় অনেক অপেক্ষা করার পর দেখলাম হঠাৎ একটা গাছ আপনি-আপনি মাটিতে কয়েক খন্ড হয়ে পড়ে গেল তা আপনি-আপনি তখতাতে পরিণত হয়ে জোড়া লেগে নৌকা হয়ে আমাকে নদী পার করে আমাকে এ পার নামিয়ে দিল এ কারণে আমার আসতে অনাকাঙ্খিত দেরি হয়ে গেছে। এ জবাব শুনার পর সভায় উপস্থিত এক নাস্তিক পন্ডিত প্রশ্ন করেন আপনি তো একজন পাগল ছাড়া আর কিছু নন। এরূপ অসম্ভব অবাস্তব কোন কর্মকান্ড কি কোন দিন কোথা ও কোন সুদক্ষ কর্মকার ব্যতীত হতে পারে? নাস্তিক পন্ডিতদের এ কথার জবাবে  ইমাম হানিফা (রহঃ) বললেন তাহলে আপনি বলুন সামান্য একখানা নৌকা তৈরি বা সৃষ্টি হতে যদি কোন সুদক্ষ মিস্ত্রি বা কর্মকার ছাড়া সম্ভব না হয় তাহ...

অনেকেই বলে কোরআনে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতে আছে, ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি এরকম মেয়েকে বিয়ে করা যায়েজ। কথাটি সত‍্য নাকি মিথ্যা !

🌿 প্রশ্নঃ অনেকেই বলে কোরআনে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতে আছে, ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি এরকম মেয়েকে বিয়ে করা যায়েজ। কথাটি সত‍্য নাকি মিথ্যা ! উত্তরঃ সূরা আত-ত্বলাক্ব এর ৪ নম্বর আয়াতঃ " তোমাদের যেসব স্ত্রীদের মাসিক হবার আশা নেই, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যাদের এখনো মাসিক হয়নি তাদেরও।[1] আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।[2] আল্লাহকে যে ভয় করবে, তিনি তার সমস্যার সমাধান সহজ করে দেবেন। " N.B:  ইদ্দতঃ স্ত্রী তালাক প্রাপ্তা হলে বা তার স্বামীর মৃত্যু হলে, স্ত্রী গর্ভবতী হয় কিনা দেখার জন‍্য যে সময় উক্ত স্ত্রীকে এক বাড়ীতে থাকতে হয়, অন্যত্র যেতে পারে না বা অন্য কোথাও বিবাহ বসতে পারে না তাকে “ইদ্দত” বলে। 🌿 তাফসীরে আহসানুল বায়ানঃ [1] এ হল সেই মহিলাদের ইদ্দত, যাদের বার্ধক্যের কারণে মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে অথবা যাদের এখনোও মাসিক আরম্ভ হয়নি। জ্ঞাতব্য যে, বিরল হলেও এমনও হয় যে, মেয়ে সাবালিকা হয়ে যায়, অথচ তার মাসিক আসে না। [2] তালাকপ্রাপ্তা মহিলা যদি গর্ভবতী হয়, তবে তার ইদ্দত হল সন্তান প্রসব করা সময় পর্যন্ত, যদিও সে তালাকের ...

আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
সত্য কথা
I have an interest in writing about the real truth of Islam. Study: I have completed BSC Engineering.