আমরা যারা মুসলিম, তারা সবাই নির্দ্বিধায় একটি কথা বিশ্বাস করি - পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে, তা একশত ভাগ সত্য এবং এর মধ্যে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু আমাদের এই ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনে একটি অত্যন্ত জরুরি কাজ করার সময় আমাদের অনেকেরই হয়ে ওঠে না। আর সেই কাজটি হলো পবিত্র কুরআনের বাণী ও বিধানগুলোকে বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা এবং যেকোনো তথ্যের সত্যতা কুরআনের কষ্টিপাথরে যাচাই করা।
পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস সম্পর্কে সঠিক ও গভীর জ্ঞান না থাকার কারণে আমরা অনেকেই বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তির শিকার হই। কিছু মানুষ ইসলামের এই মূল উৎসগুলো থেকে আংশিক বা অসম্পূর্ণ তথ্য নিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মনে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। দুঃখের বিষয় হলো, নিজেদের অজ্ঞতার কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে পাই না এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ি।
আজকের এই বিশেষ আর্টিকেলে আমরা তেমনই একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও profesonal ব্লগিং টপিক নিয়ে আলোচনা করব, যা প্রায়শই ইসলামবিদ্বেষী বা সংশয়বাদীরা উত্থাপন করে থাকে।
ইসলাম ও বিশ্বনবীর চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করার জন্য তারা যে প্রশ্নটি করে, তা হলো: "মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কি (নাউযুবিল্লাহ) কোনো শিশু কামী বা শিশু নির্যাতনকারী ছিলেন?" অথবা "হযরত আয়েশা (রা.)-এর বিয়ের আসল বয়স কি আসলেই মাত্র ৯ বছর ছিল?"
আসুন, আজ আমরা সরাসরি সহিহ বুখারী, মুসলিম, অন্যান্য সহিহ হাদীসগ্রন্থ এবং পবিত্র কুরআনের আয়াতের সমন্বয়ে গাণিতিক ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সত্যটি উন্মোচন করি।
হাদীস সংরক্ষণ ও সংকলনের একাল-সেকাল:
আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে, বুখারী বা মুসলিম শরীফে কোনো হাদীস লিপিবদ্ধ থাকলেই কি তা অন্ধভাবে কুরআনের স্পষ্ট বিধানের ওপর স্থান পেতে পারে?
এই বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের প্রথমে হাদীস সংকলনের ইতিহাস সম্পর্কে একটু পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর ইন্তেকালের সময় সাহাবায়ে কেরামের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ চৌদ্দ হাজার। এটা স্বাভাবিক যে, সব সাহাবীর পক্ষে সবসময় আল্লাহর রাসূল (সা.) - এর একদম কাছাকাছি থাকা এবং তাঁর প্রতিটি কথা সরাসরি শোনা বা প্রতিটি কাজ নিজের চোখে দেখা সম্ভব ছিল না। তাই অধিকাংশ সাহাবীর জানা হাদীসের মধ্যে কিছু ছিল সরাসরি রাসূল (সা.) - এর নিকট থেকে শোনা বা দেখা, আর কিছু ছিল অন্য কোনো বিশ্বস্ত সাহাবীর মাধ্যম থেকে জানা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন তাঁর নামে কোনো মিথ্যা কথা প্রচার করা, তাঁর কথার অপব্যাখ্যা করা বা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার বিন্দুমাত্র সুযোগ ছিল না। কারণ, তেমন কোনো খটকা তৈরি হলেই সাহাবায়ে কেরাম সরাসরি রাসূল (সা.) - এর দরবারে হাজির হয়ে তার সমাধান করে নিতে পারতেন। কিন্তু তাঁর ওফাতের পর এই সুযোগটি আর থাকেনি। এই সুযোগে কিছু মুনাফিক ও ইসলামবিদ্বেষী চক্র রাসূল (সা.) - এর নামে মিথ্যা হাদীস রচনার অপচেষ্টা শুরু করে।
প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) ঐ মুনাফিক ও মুরতাদদের কঠোর হস্তে দমন করেছিলেন। তিনি নিজে ৫০০ হাদীসের একটি চমৎকার সংকলন তৈরি করেছিলেন। কিন্তু জীবনের শেষ ভাগে তিনি নিজেই তা নষ্ট করে দেন।
মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণের মতে, এর পেছনে প্রধান দুটি কারণ ছিল:
১. তিনি ভীষণভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁর সংকলিত হাদীসে একটি শব্দও যদি রাসূল (সা.) - এর মূল বাণীর বিপরীত বা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে রাসূল (সা.) - এর কঠোর সতর্কবাণী অনুযায়ী তাঁকে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে।
২. তাঁর মনে এই ভয়ও জাগ্রত হয়েছিল যে, সাধারণ মুসলিম জনগণ যদি তাঁর সংকলিত এই হাদীস গ্রন্থকে কুরআনের সমতুল্য মর্যাদা দিয়ে বসে, তবে ইসলামের মূল কাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) - এর দৃষ্টিতেও ইসলামের মূল ভিত্তি হিসেবে পবিত্র কুরআনের পরই ছিল সুন্নাহ তথা রাসূল (সা.) - এর হাদীসের স্থান। তিনিও হাদীস বর্ণনা এবং তা গ্রহণের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। কিন্তু দিন যত যেতে থাকে, মুসলিম সাম্রাজ্য তত বিস্তৃত হতে থাকে এবং নিত্যনতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সুন্নাহর জ্ঞান জানা জরুরি হয়ে পড়ে এবং জীবিত সাহাবীগণ হাদীস বর্ণনা করতে বাধ্য হন।
পরবর্তী সময়ে সংগ্রহ, অত্যন্ত কঠোর বাছাই-ছাঁটাই এবং নিখুঁত সংকলনের পর সহীহ হাদীসের সমন্বয়ে গ্রন্থ প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। এই বিরাট ও duroho কাজের জন্য ইসলামের ইতিহাসে যে ছয়জন মহৎ ইমাম বা মুহাদ্দিস আত্মপ্রকাশ করেন, তারা হলেন:
১. ইমাম বুখারী (রহ.) (১৯৪ - ২৫৬ হিজরী)
২. ইমাম মুসলিম (রহ.) (২০৪ - ২৬১ হিজরী)
৩. ইমাম নাসায়ী (রহ.) (২১৫ - ৩০৩ হিজরী)
৪. ইমাম আবু দাউদ (রহ.) (২০২ - ২৭৫ হিজরী)
৫. ইমাম তিরমিযী (রহ.) (২০৯ - ২৭৯ হিজরী)
৬. ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) (২০৯ - ২৭৩ হিজরী)
এই ছয়জন মহৎ ব্যক্তি যে হাদীস গ্রন্থগুলো সংকলন করেন, সেগুলোই আজ মুসলিম বিশ্বে "সিহাহ সিততাহ" বা সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ছয়টি সহীহ হাদীস গ্রন্থ হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ও পঠিত।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট: ইমাম বুখারী (রহ.) বুখারী শরীফ সংকলনকালে সর্বদা রোজা রাখতেন এবং প্রতিটি হাদীস গ্রন্থে সন্নিবেশিত করার আগে গোসল করে দু' রাকাত নফল নামাজ আদায় করে মুরাকাবা ও ধ্যানের মাধ্যমে হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর নিরলস সাধনা করে ৬ লাখ হাদীস হতে যাচাই-বাছাই করে এই প্রসিদ্ধ গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন। একইভাবে ইমাম মুসলিম (রহ.) দীর্ঘ ১৫ বছরের সাধনায় ৩ লাখ হাদীস থেকে যাচাই-বাছাই করে ‘সহিহ্ মুসলিম’ শরীফ সংকলন করেছেন।
নিশ্চয়ই সহিহ হাদীস সংকলন যাতে সম্পূর্ণ নিখুঁত ও বিশুদ্ধ হয়, তার জন্য এই ইমামগণ যে হাড়ভাঙা খাটুনি ও পরিশ্রম করেছেন, আল্লাহ তাআলা তার উত্তম প্রতিদান হিসেবে তাঁদের জান্নাতবাসী করুন। আমীন।
কিন্তু আমাদের একটি মৌলিক সত্য মনে রাখতে হবে - এই বিপুল ও অক্লান্ত পরিশ্রমের পরেও তাঁরা মানুষ ছিলেন, কোনো নবী বা ফেরেশতা ছিলেন না। আর মানুষ মাত্রই ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে নয়। পবিত্র কুরআন সরাসরি আল্লাহর বাণী হওয়ায় এতে কোনো ভুলের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই, কিন্তু মানুষের দ্বারা সংকলিত হাদীসের কোনো ঐতিহাসিক তথ্য বা বর্ণনাকারীর (রাবী) স্মৃতির বিভ্রাটের কারণে সংখ্যাগত তথ্যের গড়মিল ঘটতেই পারে।
পবিত্র কুরআন হলো মূল মাপকাঠি বা কষ্টিপাথর। হাদীসের কোনো ঐতিহাসিক বা সংখ্যাগত ব্যাখ্যা যদি সরাসরি পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট মৌলিক বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী সেই ঐতিহাসিক বর্ণনার চেয়ে কুরআনের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দিতে হবে। আসুন, এবার আমরা সরাসরি প্রমাণে চলে যাই।
একই বিষয়ে দুই রকম তথ্য: সম্ভাব্যতা তত্ত্ব বা Probability Theory কী বলে?
ইসলামের ইতিহাসে হযরত আয়েশা (রা.) - এর বিয়ের বয়স নিয়ে সহিহ হাদীসের কিতাবগুলোতে প্রধানত দুই ধরণের তথ্য বা বর্ণনার মুখোমুখি হতে হয়। আসুন, তথ্য দুটি আমরা খুব কাছ থেকে দেখি:
- তথ্য (ক): কিছু বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূল (সা.) - এর সাথে হযরত আয়েশা (রা.) - এর দাম্পত্য জীবন বা বাসর ঘর শুরু হয়েছিল মাত্র ৯ বছর বয়সে।
- তথ্য (খ): অন্য কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা ও হাদীসের পরোক্ষ তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায়, রাসূল (সা.) - এর সাথে হযরত আয়েশা (রা.) - এর দাম্পত্য জীবন শুরু হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল কমপক্ষে ১৯ বা ২০ বছর।
এখন আপনিই বলুন, একই সময়ে, একজন নির্দিষ্ট মানুষের ক্ষেত্রে কি এই দুটি তথ্য একসাথে সত্য হতে পারে?
গণিতের সম্ভাব্যতা তত্ত্ব বা Probability Theory অনুসারে, একই নির্দিষ্ট দিনে বা একই সময়ে একজনের দাম্পত্য জীবন শুরুর বয়স ৯ বছর এবং ১৯ বছর - উভয়টি একসাথে সত্য হওয়া অসম্ভব। যেকোনো একটি তথ্যকে সঠিক হতে হবে এবং অন্যটিকে ঐতিহাসিক বা বর্ণনাগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় বিচারক কে? অবশ্যই মহান আল্লাহ (আল্লাহর কিতাব, পবিত্র কুরআন)।
অনুসন্ধান পদ্ধতি ১: কুরআন মাজীদের কষ্টিপাথর এবং সূরা আল-কামারের গাণিতিক হিসাব
আসুন, প্রথমে আমরা সেই বাসর ঘরের ৯ বছর বয়সের পক্ষে প্রচলিত কিছু বর্ণনা দেখে নিই, যা সাধারণত ইসলামবিদ্বেষীরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে:
ক) ৯ বছর বয়সের পক্ষে কিছু হাদীস:
সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ৫১৩৩:
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৬ বছর এবং নয় বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে বাসর ঘর করেন এবং তিনি তাঁর সান্নিধ্যে নয় বছরকাল ছিলেন।
সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ৫১৩৪:
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন তাঁর ছয় বছর বয়স তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি তাঁর সঙ্গে বাসর করেন নয় বছর বয়সে। হিশাম (রহ.) বলেন, আমি জেনেছি যে, ‘আয়িশাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নয় বছর ছিলেন।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নংঃ ৩১৭০ (হাদীস একাডেমীঃ ৩৩৭০):
আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিয়ে করেছেন, আমার বয়স তখন ছয় বছর। তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘরে যান, তখন আমার বয়স নয় বছর। ...আমি কোনো কিছুতে ভীত শংকিত হইনি। চাশতের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং তারা আমাকে তার নিকট সমর্পণ করলেন।
এছাড়াও সহীহ মুসলিমের ৩৩৭১, ৩৩৭২, ৩৩৭৩ নম্বর হাদীস এবং সুনান আবূ দাউদের ২১২১ নম্বর হাদীসেও এই ৯ বছরের কথাটি উল্লেখ রয়েছে।
খ) ১৯ বছর বয়সের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ (সূরা আল-কামারের আয়াত):
এবার আসুন, আমরা সহীহ বুখারী শরীফেরই আরেকটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য হাদীস দেখি, যা হযরত আয়েশা (রা.) - এর বয়স নির্ধারণে সম্পূর্ণ নতুন এবং যৌক্তিক দিগন্ত উন্মোচন করে:
সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ৪৮৭৬ (কুরআন মাজীদের তাফসীর অধ্যায়):
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, "বরং ক্বিয়ামাতে তাদের শাস্তির প্রতিশ্রুতিকাল এবং ক্বিয়ামাত বড়ই কঠোর ও তিক্ততর"
بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهٰى وَأَمَرُّ
-সূরাহ আল-কামার ৫৪/৪৬)
আয়াতটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর প্রতি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তখন কিশোরী (জারিয়া) ছিলাম, খেলাধূলা করতাম।
আসুন, এবার একটু ঠান্ডা মাথায় খাঁটি গণিত ও ইতিহাসের সমন্বয় করি:
ঐতিহাসিক ও তাফসীরবিদদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুসারে, ৫৪ নম্বর সূরা আল-কামার মক্কায় অবতীর্ণ হয় নবুয়তের ৫ম বর্ষে। অর্থাৎ এটি হিজরতের ঠিক ৫ বছর আগের ঘটনা (হিজরীপূর্ব ৫ সাল)।
হাদীসে হযরত আয়েশা (রা.) নিজেই বলছেন, এই আয়াত যখন নাজিল হয়, তখন তিনি "জারিয়া" ছিলেন। আরবী অভিধান এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সংজ্ঞা অনুসারে, "জারিয়া" বা কিশোরী (Adolescence) বয়সের মেয়ে বলতে ন্যূনতম ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের বোঝায়। যেহেতু তিনি নিজের মুখে নিজেকে কিশোরী বলছেন এবং খেলাধূলার পাশাপাশি আয়াতটি মনে রাখার মতো পরিপক্ক স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন, তাই ঐ সময় তাঁর বয়স আমরা সর্বনিম্ন ১০ বছর ধরতেই পারি (আরবের মরুভূমির তীব্র গরম এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সেখানকার মেয়েদের শারীরিক বৃদ্ধি খুব দ্রুত হতো ও বর্তমান যুগের একটি ১২-১৩ বছরের মেয়ের শারীরিক গঠন ও মানসিকতা, তৎকালীন আরবের মরুভূমির আবহাওয়ায় বড় হওয়া ৯-১০ বছরের মেয়ের সমান hote pare)।
তাহলে সহজ অঙ্কটি দাঁড়ায় এইরকম:
- সূরা আল-কামার নাজিলের সময় আয়েশা (রা.)-এর বয়স = ১০ বছর (সর্বনিম্ন)।
- আয়াতটি নাজিল হয় হিজরতের ৫ বছর আগে। সুতরাং, হিজরতের সময় তাঁর বয়স দাঁড়ায় = ১০+৫=১৫ বছর।
- আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে হযরত আয়েশা (রা.)-এর বিয়ে হয় ১ম হিজরীতে (৬২২ খ্রিষ্টাব্দে)।
- অতএব, তাঁর বিয়ের বয়স দাঁড়ায় = ১৫+১=১৬ বছর!
- বুখারী ও মুসলিমের অন্য বর্ণনা অনুযায়ী বিয়ের পর বাসর হতে আরও ৩ বছর সময় লেগে থাকে, তবে এই বয়স দাঁড়ায় ১৬+৩=১৯ বছর।
কুরআনের এই অভ্যন্তরীণ তাফসীরভিত্তিক গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী তাঁর বয়স কোনোভাবেই ৯ বছর আসে না, বরং ১৯ বছরের kasakasi একটি যৌক্তিক ও পরিপক্ক বয়স নির্দেশ করে।
গ) বিবাহ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের মৌলিক ও অকাট্য শর্তাবলি:
এখন প্রশ্ন হলো, ৯ বছর নাকি ১৯ বছর - কোন বয়সটি আল্লাহর কিতাব সমর্থিত? আসুন পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার দুটি আয়াত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষ করি:
"আর এতীমদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখবে, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে (নিকাহ) পৌঁছে। যদি তাদের মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনার (আরবি: রুশদ) উন্মেষ আঁচ করতে পার, তবে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পন করতে পার..."
- [সূরা নিসা, আয়াত: ৬]
"তোমরা কিরূপে তা গ্রহণ করতে পার, অথচ তোমাদের একজন অন্য জনের কাছে গমন করেছ এবং নারীরা তোমাদের কাছে থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার (আরবি: মিছাক্বান গালীযা) গ্রহণ করেছে।"
- [সূরা নিসা, আয়াত: ২১]
পবিত্র কুরআনের এই দুটি আয়াত খতিয়ে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, ইসলামে বিয়ে করার যোগ্য হতে হলে একজন নারীকে কেবল শারীরিকভাবেই নয়, বরং মানসিকভাবেও তিনটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হবে:
১. তাকে বিয়ের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছাতে হবে, যেখানে তার মধ্যে ভালো-মন্দ চেনার পূর্ণ মানসিক বুদ্ধি-বিবেচনা বা 'রুশদ' জাগ্রত হয় (আয়াত ৪:৬)।
২. সে নিজের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি ও সংসারের দায়িত্ব নিজে বুঝেশুনে বজায় রাখতে সক্ষম হবে (আয়াত ৪:৬)।
৩. বিয়ে যেহেতু একটি সুদৃঢ় সামাজিক ও আইনগত চুক্তি, তাই সেই চুক্তির শর্তাবলী বুঝে সজ্ঞানে চুক্তি স্বাক্ষর বা সুদৃঢ় অঙ্গীকার (Consent) দেওয়ার মতো পূর্ণ বয়স্ক হতে হবে ( can sign a heavy contract) (আয়াত ৪:২১)।
আপনিই আপনার বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, একটি ৯ বছরের শিশুর পক্ষে কি নিজের সম্পত্তি রক্ষা করা, সংসারের আর্থিক বোঝাপড়া সামলানো কিংবা বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় আইনি চুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে 'সুদৃঢ় অঙ্গীকার' দেওয়া সম্ভব? কখনোই সম্ভব নয়। অতএব, কুরআনের এই অলঙ্ঘনীয় ও শাশ্বত বিধান প্রমাণ করে যে, তথ্য (খ) অর্থাৎ ১৯ বছর বয়সের গাণিতিক হিসাবটিই সম্পূর্ণ সঠিক এবং কুরআন সমর্থিত। আর ৯ বছরের তথ্যটি স্পষ্টতই বর্ণনাকারীদের সনদের কোনো ঐতিহাসিক বা সংখ্যাগত বিভ্রান্তি ছিল।
অনুসন্ধান পদ্ধতি ২: উহুদ যুদ্ধের ঐতিহাসিক মানদণ্ড ও আয়েশা (রা.)-এর সক্রিয় অংশগ্রহণ
আপনি কি জানেন, ইসলামে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় ও সামরিক বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল?
আসুন, প্রথমে সহীহ হাদীসের কিতাব থেকে বয়স সংক্রান্ত সেই ঐতিহাসিক আইনটি দেখে নিই:
ইসলামিক ফাউন্ডেশন (সহীহ মুসলিম), হাদীস নংঃ ৪৬৮৪:
হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর দরবারে অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। কম বয়সের কারণে রাসূল (সা.) তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি। কিন্তু পরের বছর খন্দকের যুদ্ধের সময় যখন তাঁর বয়স ১৫ বছর হলো, তখন রাসূল (সা.) তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। এই ঘটনা শুনে খলীফা ওমর ইবনে আবদুল আজীজ (রহ.) বলেছিলেন, "এটাই হলো শিশু ও বয়স্কদের (সামরিক) বয়সসীমা।"
এই হাদীস থেকে পরিষ্কার প্রমাণিত হয় যে, হিজরী ৩য় সনে অনুষ্ঠিত উহুদ যুদ্ধের সময় ছেলে বা মেয়ে নির্বিশেষে ১৫ বছরের কম বয়সী কাউকে কোনোভাবেই যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার বা দায়িত্ব নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো না।
এবার আসুন, উহুদ যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রা.) - এর ভূমিকা কী ছিল, তা সহীহ বুখারী থেকে সরাসরি দেখে নেওয়া যাক:
সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ২৮৮০ (জিহাদ অধ্যায়):
হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের যুদ্ধে সাহাবীগণ যখন নাবী (সা.) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন, আমি দেখলাম, ‘আয়িশাহ বিনতে আবূ বাকর ও উম্মু সুলাইম (রা.) তাঁদের আঁচল এতটুকু উঠিয়ে নিয়েছেন যে, আমি তাঁদের উভয় পায়ের গহনা দেখছিলাম। তাঁরা উভয়েই পানির মশক পিঠে বয়ে সাহাবীগণের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। আবার ফিরে গিয়ে মশক ভর্তি করে নিয়ে এসে সাহাবীগণের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন।
উহুদ যুদ্ধের এই ঐতিহাসিক মানদণ্ডের গাণিতিক হিসাব:
- উহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হিজরী ৩য় সনে (অর্থাৎ ইংরেজি ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে)।
- আইন অনুযায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠোর পরিশ্রমের কাজ (পানির moshko পিঠে বহন করা) করার জন্য হযরত আয়েশা (রা.) - এর বয়স উহুদের যুদ্ধে কমপক্ষে ১৫ বা ১৬ বছর হতেই হতো। এর নিচে হলে তিনি রাসূল (সা.) - এর সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার অনুমতিই পেতেন না।
- যদি উহুদ যুদ্ধে (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দে) তাঁর বয়স ১৬ বছর ধরা হয়, তবে তার ৩ বছর আগে অর্থাৎ ১ম হিজরীতে (৬২২ খ্রিষ্টাব্দে) যখন তাঁর বিয়ে হয়, তখন তাঁর বয়স ধরি: ১৬−৩=১৩ বছর।
- আর আমরা জানি, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও বাসর ঘরের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল। যদি আমরা ঐতিহাসিক ৩ বছরের ব্যবধান ধরি, তবে দাম্পত্য জীবন পূর্ণাঙ্গরূপে শুরুর সময় তাঁর বয়স দাঁড়ায়: ১৩+৩=১৬ বছর (একেবারে সর্বনিম্ন)।
এই ঐতিহাসিক ও সামরিক আইনগত বিশ্লেষণ থেকেও এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, বাসর ঘরের সময় হযরত আয়েশা (রা.) - এর বয়স কোনো অবস্থাতেই ৯ বছরের অবুঝ শিশু ছিল না, বরং তা ছিল একজন দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন তরুণী বা যুবতীর বয়স।
অনুসন্ধান পদ্ধতি ৩: হযরত আসমা (রা.)-এর বয়স এবং দুই বোনের বয়সের ঐতিহাসিক ব্যবধান
হযরত আয়েশা (রা.) - এর বিয়ের প্রকৃত বয়স বের করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক পদ্ধতি হলো তাঁর বড় বোন হযরত আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) - এর বয়সের সাথে তুলনা করা।
আসুন, মধ্যযুগ ও প্রাচীনকালের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিসদের কিতাব থেকে কিছু অকাট্য রেফারেন্স দেখে নিই:
প্রখ্যাত ইমাম আল-জাহাবী তাঁর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৯)-তে উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আসমা (রা.) তাঁর ছোট বোন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে ঠিক ১০ বছরের বড় ছিলেন।
বিখ্যাত ইতিহাসবিদ হাফেজ ইবনে কাছীরও তাঁর নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থ 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭১)-তে এই তথ্যের পুনরাবৃত্তি করে নিশ্চিত করেছেন যে, আসমা (রা.) তাঁর বোন আয়েশা (রা.) অপেক্ষা ১০ বছরের জ্যেষ্ঠ ছিলেন।
এবার আসুন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আরেকটি সহজ গাণিতিক সমীকরণ সমাধান করি:
- ঐতিহাসিক তথ্য ও জীবনীগ্রন্থ অনুসারে, হযরত আসমা (রা.) ইংরেজি ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
Other Source 1: https://en.m.wikipedia.org/
Source 2: grokipedia.com/
- যেহেতু আসমা (রা.) তাঁর ছোট বোন আয়েশা (রা.) থেকে ঠিক ১০ বছরের বড় ছিলেন, সেহেতু হযরত আয়েশা (রা.)-এর জন্মসাল হবে: ৫৯৫+১০=৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ।
- আমরা আগেই জেনেছি, আল্লাহর রাসূল (সা.) - এর সাথে হযরত আয়েশা (রা.) - এর বিয়ে হয় ১ম হিজরীতে, অর্থাৎ ইংরেজি ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে।
- বিয়ের বয়স=৬২২ খ্রিষ্টাব্দ - ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ=১৭ বছর!
- আর সহীহ হাদীসের তথ্যমতেই, বিয়ের পর দাম্পত্য জীবন বা বাসর ঘর শুরু হয় আরও ৩ বছর পর।
- অতএব, দাম্পত্য জীবন শুরুর সময় তাঁর প্রকৃত ও অকাট্য বয়স ছিল: ১৭+৩=২০ বছর!
অনুসন্ধান পদ্ধতি ৪:
উইকিপিডিয়ার "Umm Ruman" নিবন্ধের অফিসিয়াল তথ্য (Biography te) অনুযায়ী, হযরত আবু বকর (রা.) এবং উম্মে রুমান (রা.)-এর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল ৬০১ খ্রিস্টাব্দে (601 CE)। Source: https://en.wikipedia.org/wiki/Umm_Ruman
এই ডেটা পয়েন্টটিকে ভিত্তি ধরে যদি আমরা একটা লজিক্যাল টাইমলাইন তৈরি করি, তবে হিসাবটা দাঁড়ায় ঠিক এমন:
• আবু বকর (রা.) ও উম্মে রুমান (রা.)-এর বিয়ে = ৬০১ খ্রিস্টাব্দ।
• হিজরতের বছর (১ম হিজরি) = ৬২২ খ্রিস্টাব্দ।
• সময়ের ব্যবধান: ৬২২ - ৬০১ = ২১ বছর। অর্থাৎ, হিজরতের সময় তাঁদের দাম্পত্য জীবনের মোট বয়স ছিল ২১ বছর।
• বিয়ের ঠিক পরপরই যদি বড় ভাই আবদুর রহমানের জন্ম হয়ে থাকে (ধরে নিলাম ৬০২ খ্রিস্টাব্দে), তবে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে (হিজরতের বছর) ভাইয়ের বয়স দাঁড়ায় ঠিক ২০ বছর।
• আরবের তৎকালীন স্বাভাবিক বিরতির চেয়ে একটু বেশি, অর্থাৎ দুই ভাই-বোনের বয়সের ব্যবধান যদি আমরা সর্বোচ্চ ৫ বছরও ধরে নিই, তবে হযরত আয়েশা (রা.)-এর জন্ম সাল দাঁড়ায়: ৬০২ + ৫ = ৬০৭ খ্রিস্টাব্দ।
• এই জন্মসাল অনুযায়ী ১ম হিজরিতে (৬২২ খ্রি.) আয়েশা (রা.)-এর বয়স দাঁড়ায়: ৬২২ - ৬০৭ = ১৫ বছর। (আর ভাই-বোনের বয়সের গ্যাপ যদি ৪ বছর ধরা হয়, তবে বয়স দাঁড়ায় ১৬ বছর)।
• ১ম হিজরিতে (৬২২ খ্রি.) আয়েশা (রা.)-এর বয়স = ১৬ বছর।
• মদীনায় সংসার শুরু = হিজরতের ৩ বছর পর।
• চূড়ান্ত বয়স: ১৬ + ৩ = ১৯ বছর!
শেষ কথা: একটি ঐতিহাসিক ভ্রান্তির অবসান
প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে করা সূক্ষ্ম ও নিখুঁত গাণিতিক এবং কুরআনিক হিসাব-নিকাশ থেকে আজ আমাদের সামনে এটি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, দাম্পত্য জীবন শুরুর সময় হযরত মা আয়েশা (রা.)-এর বয়স মাত্র ৯ বছর ছিল - এই বহুল প্রচলিত তথ্যটি মূলত ইসলামের ইতিহাসের মস্তবড় এক বর্ণনাক্রমিক ও ঐতিহাসিক ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়।
পবিত্র কুরআনের অলঙ্ঘনীয় বিধান এবং তাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমর্থন করা অন্যান্য সহীহ হাদীসের আলোকেই প্রমাণিত হয় যে, উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) - এর দাম্পত্য জীবন শুরু হয়েছিল কমপক্ষে ১৯ বছর বয়সে, যা তৎকালীন আরব সমাজ তো বটেই, বর্তমান আধুনিক বিশ্বেও একটি মেয়ের বিয়ের আদর্শ ও স্বাভাবিক বয়স।
অতএব, ইসলামবিদ্বেষীদের ছড়ানো সেই নোংরা অপবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কখনোই (নাউযুবিল্লাহ) কোনো শিশু কামী বা শিশু নির্যাতনকারী ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মহান আদর্শ, পবিত্রতা ও ইনসাফের মূর্ত প্রতীক।
আশা করি, ঠান্ডা মাথায় সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার পর এই বিষয়ে আপনার মনের সমস্ত সংশয় দূর হয়েছে। যদি কখনো মনে আবার কোনো খটকা জাগে, তবে বিনীত অনুরোধ থাকবে - আর্টিকেলটি আরও একবার সময় নিয়ে মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যকে জানার ও বোঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন