সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইসলামে কি মুখ ঢাকা বাধ্যতামূলক? হিজাবের সঠিক নিয়ম, পর্দা করার হাদিস

আচ্ছা, একটা ছোট ধাঁধা দিয়ে শুরু করা যাক। ধরুন, আপনি বাজার থেকে আপনার লাইফের সবচেয়ে দামী আর ব্র্যান্ড নিউ আইফোনটা কিনে আনলেন। এখন ফোনটাকে স্ক্র্যাচ আর চোরের নজর থেকে বাঁচাতে আপনি কি একটা দামী ব্যাক-কভার আর গরিলা গ্লাস লাগাবেন, নাকি ফোনটা নগ্ন অবস্থায় পকেটে রেখে দেবেন? উত্তরটা আমরা সবাই জানি।

অথচ, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এসে যখন মুসলিম নারীর সম্মান আর সুরক্ষার প্রশ্ন ওঠে, তখন oneke দাবি korte paren, ইসলামে মুসলিম নারীদের চুল বা মাথা ঢাকার নির্দেশ থাকলেও ‘নিকাব’ (মুখ, hat, pa, etc. ঢেকে) করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই!" তারা কুরআনের সূরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াত দেখিয়ে bolte paren, আল্লাহ তো আয়াতে সরাসরি ‘মুখ’ শব্দটা বলেননি!

প্রথম দেখায় এই কথাগুলোকে অনেকের কাছে খুব প্রগতিশীল আর লজিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু আজ আমরা কোনো অন্ধ বিশ্বাস থেকে নয়, বরং একদম চোখ-কান খোলা রেখে খাঁটি লজিক আর কিছু বম-শেল সহীহ হাদিস দিয়ে এই থিওরির পেছনের মারাত্মক ফাঁকিটা ধরব। প্রমিজ করছি, আগামী ৫ মিনিট আপনার জীবনের অন্যতম সেরা একটি রিডিং এক্সপেরিয়েন্স হতে যাচ্ছে।

১. ‘সৌন্দর্য প্রকাশ না করার’ মনস্তাত্ত্বিক লজিক (The Core Argument)

কুরআনে হিজাবের মূল আয়াতে (সূরা নূর: ৩১) আল্লাহ তাআলা মুসলিম নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন:

“তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত।”

এবার একটু ঠান্ডা মাথায় নিজের কমন সেন্স বা লজিক দিয়ে চিন্তা করুন - একটা মানুষের সৌন্দর্যের মূল রাজধানী কোথায়?

তার হাত, পা, কনুই নাকি তার মুখমণ্ডল? অবশ্যই তার মুখমণ্ডল (Face)! চোখ, কপালে জড়ো হওয়া চুল, ঠোঁটের হাসি, গালের লাবণ্য - সবকিছুই তো মানুষের মুখে থাকে। একজন মানুষের রূপের আসল প্রশংসাই হয় তার চেহারা দেখে। এখন কেউ যদি দাবি করে, “আমি মাথা, চুল আর পুরো শরীর বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখবো, কিন্তু আমার সৌন্দর্যের মূল রাজপ্রাসাদ অর্থাৎ মুখমণ্ডলটা সবার সামনে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মতো খোলা রাখবো” - তবে তা কি লজিক্যালি খাপ খায়?

আল্লাহ যেখানে স্পষ্ট বলছেন ‘সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে’, সেখানে সৌন্দর্যের প্রধানতম অংশটাই যদি খোলা থাকে, তবে তো পর্দার মূল উদ্দেশ্যই হাস্যাস্পদ হয়ে যায়! সুতরাং, লজিক এটাই বলে - সৌন্দর্য ঢাকতে হলে মুখ সবার আগে ঢাকতে হবে।

২. ‘যা সাধারণত প্রকাশ পেয়ে যায়’—এর আসল টুইস্ট!

যারা মুখ খোলা রাখার পক্ষে ওকালতি করেন, তারা আয়ারতের এই অংশটা নিয়ে খুব লাফালাফি করেন: “যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত (ইল্লা মা জাহারা মিনহা)।” তারা দাবি করেন, মুখ আর হাত তো খোলাই থাকে, তাই আল্লাহ এখানে মুখ খোলার লাইসেন্স দিয়েছেন।

কিন্তু এর পেছনে প্রধান সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.)-এর দলিলের লজিকটা শুনলে আপনার চিন্তার জগত বদলে যাবে।

তিনি বলেছিলেন, আয়াতে ‘যা প্রকাশ পেয়ে যায়’ বলতে কোনো শরীরের অংশ বা মুখের মেকআপ বোঝানো হয়নি। বরং এর অর্থ হলো - একজন নারী যখন নিজেকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটা বড় চাদর বা বোরকা (জিলবাব) দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলবেন, তখনও রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় তাঁর উচ্চতা (Height), সে কি স্লিম নাকি ফ্যাট—এই বাহ্যিক শারীরিক অবয়ব বা চাদরের ওপরের অংশটুকু মানুষের চোখে পড়বেই। এটা লুকিয়ে রাখা মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

চলুন আরও সহজ একটা বাস্তব উদাহরণ দেওয়া যাক। আপনি যদি আপনার একটা দামী গাড়ি ধুলোবালি বা চোরের নজর থেকে বাঁচাতে একটা বড় কালো রঙের কার-কভার (গাড়ির চাদর) দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দেন - রাস্তার মানুষ কিন্তু গাড়িটার আসল রঙ বা হেডলাইট দেখতে পাবে না। কিন্তু বাইরে থেকে দেখে এতটুকু তো অবশ্যই বুঝতে পারবে যে চাদরের নিচে একটা চার চাকার গাড়ি আছে এবং সেটার সাইজ কতটুকু।

এই যে চাদর দিয়ে সম্পূর্ণ ঢাকার পরেও বাইরের যে অবয়বটা মানুষের চোখে এমনিতেই ধরা পড়ছে - আল্লাহ আয়াতে মূলত ওই বাধ্যতামূলক অংশটুকুর কথাই বলেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, আপনি ইচ্ছা করে আপনার মুখমণ্ডল বা হাত খোলা রাখবেন।

৩. আল্লাহ যদি এই বাক্যটি না বলতেন, তবে কী হতো? (The Safety Valve)

এখানেই কুরআনের শব্দ চয়নের অলৌকিক সৌন্দর্য। একটু ভাবুন তো, আল্লাহ যদি আয়াতে এই ব্যতিক্রমী অংশটুকু (যা সাধারণত প্রকাশ পেয়ে যায় তা ব্যতীত) না বলতেন, তবে কী হতো?

তাহলে সমাজ বা ইন্টারনেটের একদল উগ্র ও চরমপন্থী মানুষ ফতোয়া দিয়ে দিত যে - নারীর চাদরের রঙ বা তার অস্তিত্বের কোনো চিহ্নও যেহেতু বাইরে প্রকাশ করা যাবে না, সুতরাং নারীদের ঘরের বাইরেই বের হতে দেওয়া যাবে না! তাদের চিরকাল চার দেয়ালের ভেতর লাইফ-টাইম জেলখানায় বন্দি থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা এই বাক্যটি যুক্ত করে মানুষের তৈরি করা সেই চরমপন্থার পথ চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন। আল্লাহ বুঝিয়েছেন:

• নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়ার, সমাজ ও পৃথিবীর প্রয়োজনে চলাফেরা করার পূর্ণ অধিকার আছে।

• বাইরে বের হলে স্বাভাবিকভাবেই চাদরের বাইরের অংশ বা তার অবয়ব মানুষের চোখে পড়বে, যা ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ এবং ক্ষমাযোগ্য।

সুতরাং, এই বাক্যটি আসলে নারীদেরকে ঘরে বন্দি করার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহর দেওয়া একটি "নিরাপত্তা দেয়াল" বা মুক্তির সনদ, মুখ খোলার লাইসেন্স নয়।

৪. এবার দেখা যাক সহীহ হাদিস কী বলে? (The Hard Proofs)

আসুন এবার আমরা শুধু লজিক ছেড়ে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবীদের সোনালী যুগে চলে যাই। তারা পর্দার আয়াত আসার পর ঠিক কী করেছিলেন?

• হাদিস ১ (সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৪৭৫৮): আম্মাজান আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, যখন সূরা নূরের এই পর্দার আয়াতটি নাজিল হলো, তখন আনসার নারীরা তৎক্ষণাৎ তাদের চাদর বা কাপড়ের পাড় কেটে তা দিয়ে ওড়না বা ওড়নার মতো তৈরি করে নিজেদের মুখমণ্ডল এবং শরীর সম্পূর্ণ ঢেকে ফেললেন। তারা এতটাই নিখুঁতভাবে মুখ ঢেকেছিলেন যে দূর থেকে মনে হতো তাদের মাথার ওপর কাক বসে আছে!

• হাদিস ২ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৮৩৩ - সহীহ): হজের সময় ইহরাম বাঁধলে সাধারণ অবস্থায় মুখে কাপড় লাগানো নিষেধ। কিন্তু আম্মাজান আয়েশা (রা.) নিজেই বলছেন, "আমরা যখন রাসূল (সা.)-এর সাথে হজের ইহরাম অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক পুরুষ আরোহী চলে যেত। তারা যখন আমাদের কাছাকাছি আসত, তখন আমরা আমাদের মাথার ওপরের চাদরটি টেনে মুখের ওপর ঝুলিয়ে দিতাম (মুখ ঢেকে ফেলতাম)। আবার তারা চলে গেলে আমরা মুখ খুলে দিতাম।"

একটু চিন্তা করুন! হজের মতো পবিত্র জায়গায়, যেখানে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ - সেখানেও পরপুরুষ সামনে আসলে আল্লাহর রাসুলের স্ত্রীরা চাদর টেনে মুখ ঢেকে ফেলতেন। তাহলে সাধারণ অবস্থায় রাস্তাঘাটে বা বাজারে মুখ খোলা রাখার থিওরি কতটা টিকবে?

৫. কাজ, কেনাকাটা আর করোনাকালের শিক্ষা

অনেকে একটা বেশ খোঁড়া যুক্তি দেন যে - নারীদের বাজারে যেতে হয়, কেনাকাটা করতে হয় বা চাকরি-বাকরি করতে হয়; মুখ ঢেকে রাখলে নাকি লেনদেন করা অসম্ভব।

আজকের আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এই যুক্তিটা একেবারেই অচল। আমাদের মা-বোনেরা বা পৃথিবীর লাখ লাখ কর্মজীবী নারী নিকাব পরে সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টারি থেকে শুরু করে কর্পোরেট চাকরি, ব্যাংকিং, ব্যবসা বা কেনাকাটা - সবকিছু নিখুঁতভাবে করছেন। মুখ ঢাকা থাকলে কাজে কোনো বাধা আসে না।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ তো আমাদের পার হয়ে আসা করোনাকাল। তখন কি পৃথিবীর সব স্তরের নারী-পুরুষ মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকেই অফিসের কাজ, কেনাকাটা, লেনদেন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যন্ত করেনি? তখন যদি মুখ ঢেকে দুনিয়া কাঁপানো সম্ভব হয়, তবে আল্লাহর বিধান মেনে নিকাব পরে কেন করা যাবে না?

তাছাড়া, কুরআনে যেখানে সৌন্দর্য (যিনাত) প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে আর একটা সুক্ষ্ম বিষয় লক্ষ্য করুন। আজকের যুগে কোনো নারী যদি মুখ খোলা রাখার অজুহাতে মুখে আধুনিক মেকআপ, লিপস্টিক বা ফাউন্ডেশন মেখে পরপুরুষের সামনে বের হয়, তবে সে তো ইচ্ছা করে তার রূপ প্রদর্শন (Tabarruj) করছে, যা কুরআনে স্পষ্ট হারাম। যেহেতু মুখমণ্ডল খোলা রাখলে কোনো না কোনোভাবে সৌন্দর্য বা সাজগোজ প্রকাশ পাওয়ার ১০০% ঝুঁকি থাকেই, তাই মুখ ঢেকে রাখাই একমাত্র নিরাপদ দেয়াল।

শেষ কথা

ফেসবুকের সস্তা বা আংশিক ব্যাখ্যার বিভ্রান্তিতে না পড়ে, আমাদের উচিত কুরআনের মূল স্পিরিট ও খাঁটি লজিকটাকে বোঝা। মুখ ঢেকেও যেহেতু দুনিয়ার সব কাজ করা সম্ভব, তাই একজন মুসলিম নারী হিসেবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নিজের সর্বোচ্চ সম্মান, পবিত্রতা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য নিকাব (মুখ ঢাকা)-কে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কেন ! মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী বলা যাবে না!

আমরা যারা মুসলিম সবাই এই একটি কথা অবশ্যই বিশ্বাস করি সেটা হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা একশত ভাগ সত্য। কিন্তু অবশ্যই কর্তব্য এমন একটি কাজ আছে যেটা করার সময় আমাদের  অনেকেরই হয় না আমাদের দৈনন্দিন ব‍্যস্ততার কারণে। আর সেই কাজটি হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ করা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস ঠিক মত না জানার কারণে আমরা অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হই কিছু মানুষের দ্বারা যারা পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা সঠিকভাবে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস না জানার কারণে এই বিভ্রান্তির শিকার হই। অনেক বিভ্রান্তিকর প্রশ্নগুলোর মধ‍্যে একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন যেটা ইনশাআল্লাহ আজকে আলোচনা করব। প্রশ্নঃ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কি শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী ছিলেন? উত্তরঃ মূল বক্তব্যঃ রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের সময় সাহাবীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ চৌদ্দ হাজার। তাদের সব সময় রাসূল (সা.) এর কাছে থেকে তাঁর সকল কথা শুনা বা সকল কাজ দেখা সম্ভব ছিল না। তাই অধিকাংশ সাহাবীর জানা থাকা হাদীসের মধ্যে কিছু ছিল রাসূল (সা.) এর নিকট থেকে সরাসরি শুনা বা...

ইসলাম ধর্ম দাসপ্রথাকে কিভাবে মানবিক করেছে

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকেরই ইসলামে দাস দাসী নিয়ে খারাপ ধারণা আছে আবার এমন অনেকে আছেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন থেকে জবাব দিতে পারি না এমনকি হুজুরের জবাবেও মনে শান্তি পাই না। এর ফলে আস্তে আস্তে অনেকেরই ইসলামের প্রতি বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তারা ধৈর্য্য সহকারে এই লেখাটি পড়ার অনুরোধ রইল আশা করি এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা আসবে এবং inshAllah, অন্যকে বিভ্রান্ত থেকে বাঁচাতে পারবেন। ইসলাম দাস প্রথার প্রবর্তক নয়; খুব সম্ভবত সেই আদিম বর্বরতার যুগে দাস প্রথার উৎপত্তি হয়েছিল এবং তা লিখিত ইতিহাসের পুরোটা ব্যাপী বিশ্বের প্রধান প্রধান সভ্যতার বৈশিষ্ট্য ছিল। দাস প্রথা ব্যাবিলনিয়া এবং মেসোপটেমিয়াতেও প্রচলিত ছিল। খ্রিস্টান ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে প্রাচীন মিশর, গ্রীস ও রোমিও দাস প্রথা বিশেষ লক্ষনীয় ছিল। দাসত্ব (ইংরেজি: Slavery বা Thralldom) বলতে বোঝায় কোনো মানুষকে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা, এবং এক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত দুই ভাবে দাস দাসী হয়। যেমনঃ ✅ একঃ অভাব, দুর্ভিক্ষ, নদী ভাঙন, পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যু প্রভৃতি দুর্যোগ কবলিত ব্...

কে গাণিতিক হিসাবে এগিয়ে? সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী না সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী! [অংক ও সমাধান]

কাল্পনিক দুইটি নাম (রাহি, মাশা) দিয়ে একটি অংক বুঝার চেষ্টা করি যেখানে আমরা বুঝতে পারব সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ও সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীর মধ্যে কে বেশি লাভবানঃ ধরি, মাশা = সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী রাহি = সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী মাশার স্ত্রীর নাম   = মাহি রাহির স্ত্রীর নাম   = রানু বি. দ্রঃ রাহি ও মাশা একটি কোম্পানিতে প্রায় একই বয়সে (ধরি, ২৫ বছর বয়সে) একই সাথে খুব ছোট পোস্টে যোগদান  করে (কারণ তাদের পড়াশুনা খুবই কম ছিল) এবং তাদের বেতন সমান। পড়াশুনা খুবই কম থাকার কারণে তাদের বছরের পর বছর কাজ করার পরেও কোন প্রমোশন হচ্ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করার ফলে কোন ভয় না করে মাশা চাকরির পাশাপাশি অল্প কিছু টাকা দিয়ে সুদের ব‍্যবসা সহ লোক ঠকানোর কাজ শুরু করল এবং এই অবৈধ ব‍্যবসা থেকে আস্তে আস্তে লাভও হতে শুরু করল। অপরদিকে, সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করার কারণে রাহি চাকরির পাশাপাশি নিজে কষ্ট করে হলেও গরিবদের সাহায্য করত। রানু ও মাহি বান্ধবী। হঠাৎ তারা কি মনে করে একটি সিদ্ধান্তে আসল। সিদ্ধান্তটি হল, যদি বেঁচে থাকে জীবনের শেষ পর্যায়ে  তারা যাচাই করবে তাদের স্বামীদের মধ‍্যে কার ক্রেডি...

কেন সৃষ্টিকর্তার বা আল্লাহর বা ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ জানা জরুরী?

অনেকেই আপনাকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে এমনকি আপনার নিজেরও হঠাৎ সন্দেহ হতে পারে সৃষ্টিকর্তা আছে কি নাই। 💎 ইসলামিক যুক্তিঃ 💭 হযরত ইমাম আবু হানিফার একটা ঘটনা, একদিন বিতর্ক অনুষ্ঠানে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যে তাকে দাওয়াত করা হয়েছিল তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেক বিলম্বে সভাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় তাকে প্রশ্ন করা হলো, আপনি এত দেরিতে কেন আসলেন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন আমার আসার পথে একটা নদী থাকায় ও নদীতে কোনো নৌকা ও মাঝি না থাকায় অনেক অপেক্ষা করার পর দেখলাম হঠাৎ একটা গাছ আপনি-আপনি মাটিতে কয়েক খন্ড হয়ে পড়ে গেল তা আপনি-আপনি তখতাতে পরিণত হয়ে জোড়া লেগে নৌকা হয়ে আমাকে নদী পার করে আমাকে এ পার নামিয়ে দিল এ কারণে আমার আসতে অনাকাঙ্খিত দেরি হয়ে গেছে। এ জবাব শুনার পর সভায় উপস্থিত এক নাস্তিক পন্ডিত প্রশ্ন করেন আপনি তো একজন পাগল ছাড়া আর কিছু নন। এরূপ অসম্ভব অবাস্তব কোন কর্মকান্ড কি কোন দিন কোথা ও কোন সুদক্ষ কর্মকার ব্যতীত হতে পারে? নাস্তিক পন্ডিতদের এ কথার জবাবে  ইমাম হানিফা (রহঃ) বললেন তাহলে আপনি বলুন সামান্য একখানা নৌকা তৈরি বা সৃষ্টি হতে যদি কোন সুদক্ষ মিস্ত্রি বা কর্মকার ছাড়া সম্ভব না হয় তাহ...

অনেকেই বলে কোরআনে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতে আছে, ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি এরকম মেয়েকে বিয়ে করা যায়েজ। কথাটি সত‍্য নাকি মিথ্যা !

🌿 প্রশ্নঃ অনেকেই বলে কোরআনে সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতে আছে, ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি এরকম মেয়েকে বিয়ে করা যায়েজ। কথাটি সত‍্য নাকি মিথ্যা ! উত্তরঃ সূরা আত-ত্বলাক্ব এর ৪ নম্বর আয়াতঃ " তোমাদের যেসব স্ত্রীদের মাসিক হবার আশা নেই, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা সন্দেহ করলে তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস এবং যাদের এখনো মাসিক হয়নি তাদেরও।[1] আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত।[2] আল্লাহকে যে ভয় করবে, তিনি তার সমস্যার সমাধান সহজ করে দেবেন। " N.B:  ইদ্দতঃ স্ত্রী তালাক প্রাপ্তা হলে বা তার স্বামীর মৃত্যু হলে, স্ত্রী গর্ভবতী হয় কিনা দেখার জন‍্য যে সময় উক্ত স্ত্রীকে এক বাড়ীতে থাকতে হয়, অন্যত্র যেতে পারে না বা অন্য কোথাও বিবাহ বসতে পারে না তাকে “ইদ্দত” বলে। 🌿 তাফসীরে আহসানুল বায়ানঃ [1] এ হল সেই মহিলাদের ইদ্দত, যাদের বার্ধক্যের কারণে মাসিক বন্ধ হয়ে গেছে অথবা যাদের এখনোও মাসিক আরম্ভ হয়নি। জ্ঞাতব্য যে, বিরল হলেও এমনও হয় যে, মেয়ে সাবালিকা হয়ে যায়, অথচ তার মাসিক আসে না। [2] তালাকপ্রাপ্তা মহিলা যদি গর্ভবতী হয়, তবে তার ইদ্দত হল সন্তান প্রসব করা সময় পর্যন্ত, যদিও সে তালাকের ...

আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
সত্য কথা
I have an interest in writing about the real truth of Islam. Study: I have completed BSC Engineering.