সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নবী মোহাম্মদ (সা.) সাফিয়া (রা.)‑কে জোর করে বিয়ে করেছেন?

 Answer: নবী মোহাম্মদ (সা.) সাফিয়া (রা.)‑কে জোর করে বিয়ে করেননি।

হাদিস:

(حديث مرفوع) حَدَّثَنَا  عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، حَدَّثَنَا  مَعْمَرٌ ، قَالَ: سَمِعْتُ  ثَابِتًا  يُحَدِّثُ، عَنْ  أَنَسٍ ، قَالَ: لَمَّا افْتَتَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْبَرَ، قَالَ الْحَجَّاجُ بْنُ عِلَاطٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي بِمَكَّةَ مَالًا، وَإِنَّ لِي بِهَا أَهْلًا، وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ آتِيَهُمْ، فَأَنَا فِي حِلٍّ إِنْ أَنَا نِلْتُ مِنْكَ أَوْ قُلْتُ شَيْئًا؟" فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقُولَ مَا شَاءَ"، فَأَتَى امْرَأَتَهُ حِينَ قَدِمَ، فَقَالَ: اجْمَعِي لِي مَا كَانَ عِنْدَكِ، فَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَشْتَرِيَ مِنْ غَنَائِمِ مُحَمَّدٍ وَأَصْحَابِهِ، فَإِنَّهُمْ قَدْ اسْتُبِيحُوا، وَأُصِيبَتْ أَمْوَالُهُمْ، قَالَ فَفَشَا ذَلِكَ فِي مَكَّةَ، فَانْقَمَعَ الْمُسْلِمُونَ، وَأَظْهَرَ الْمُشْرِكُونَ فَرَحًا وَسُرُورًا، قَالَ: وَبَلَغَ الْخَبَرُ الْعَبَّاسَ فَعَقِرَ، وَجَعَلَ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقُومَ، قَالَ مَعْمَرٌ: فَأَخْبَرَنِي عُثْمَانُ الْجَزَرِيُّ عَنْ مِقْسَمٍ، قَالَ: فَأَخَذَ ابْنًا لَهُ، يُقَالُ لَهُ: قُثَمُ، فَاسْتَلْقَى فَوَضَعَهُ عَلَى صَدْرِهِ، وَهُوَ يَقُولُ: حِبِّي قُثَمْ شَبِيهُ ذِي الْأَنْفِ الْأَشَمْ نَبيِّ ذِي النِّعَمْ بَرْغَمِ مَنْ رَغَمْ، قَالَ ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ: ثُمَّ أَرْسَلَ غُلَامًا إِلَى الْحَجَّاجِ بْنِ عِلَاطٍ: وَيْلَكَ، مَا جِئْتَ بِهِ وَمَاذَا تَقُولُ؟ فَمَا وَعَدَ اللَّهُ خَيْرٌ مِمَّا جِئْتَ بِهِ، قَالَ الْحَجَّاجُ بْنُ عِلَاطٍ لِغُلَامِهِ: اقْرَأْ عَلَى أَبِي الْفَضْلِ السَّلَامَ، وَقُلْ لَهُ: فَلْيَخْلُ لِي فِي بَعْضِ بُيُوتِهِ لِآتِيَهُ، فَإِنَّ الْخَبَرَ عَلَى مَا يَسُرُّهُ، فَجَاءَ غُلَامُهُ، فَلَمَّا بَلَغَ بَابَ الدَّارِ، قَالَ: أَبْشِرْ يَا أَبَا الْفَضْلِ، قَالَ: فَوَثَبَ الْعَبَّاسُ فَرَحًا حَتَّى قَبَّلَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، فَأَخْبَرَهُ مَا قَالَ الْحَجَّاجُ، فَأَعْتَقَهُ، قَالَ: ثُمَّ جَاءَهُ الْحَجَّاجُ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ افْتَتَحَ خَيْبَرَ، وَغَنِمَ أَمْوَالَهُمْ، وَجَرَتْ سِهَامُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي أَمْوَالِهِمْ، وَاصْطَفَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ فَاتَّخَذَهَا لِنَفْسِهِ، وَخَيَّرَهَا أَنْ يُعْتِقَهَا وَتَكُونَ زَوْجَتَهُ، أَوْ تَلْحَقَ بِأَهْلِهَا، فَاخْتَارَتْ أَنْ يُعْتِقَهَا وَتَكُونَ زَوْجَتَهُ، وَلَكِنِّي جِئْتُ لِمَالٍ كَانَ لِي هَاهُنَا أَرَدْتُ أَنْ أَجْمَعَهُ فَأَذْهَبَ بِهِ، فَاسْتَأْذَنْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَذِنَ لِي أَنْ أَقُولَ مَا شِئْتُ، فَأَخْفِ عَنِّي ثَلَاثًا، ثُمَّ اذْكُرْ مَا بَدَا لَكَ، قَالَ: فَجَمَعَتِ امْرَأَتُهُ مَا كَانَ عِنْدَهَا مِنْ حُلِيٍّ وَمَتَاعٍ، فَجَمَعَتْهُ فَدَفَعَتْهُ إِلَيْهِ، ثُمَّ انشَمَرَ بِهِ، فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ثَلَاثٍ أَتَى الْعَبَّاسُ امْرَأَةَ الْحَجَّاجِ، فَقَالَ: مَا فَعَلَ زَوْجُكِ؟ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهُ قَدْ ذَهَبَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا، وَقَالَتْ: لَا يُخْزِيكَ اللَّهُ يَا أَبَا الْفَضْلِ، لَقَدْ شَقَّ عَلَيْنَا الَّذِي بَلَغَكَ، قَالَ: أَجَلْ لَا يُخْزِنِي اللَّهُ، وَلَمْ يَكُنْ بِحَمْدِ اللَّهِ إِلَّا مَا أَحْبَبْنَا فَتَحَ اللَّهُ خَيْبَرَ عَلَى رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَرَتْ فِيهَا سِهَامُ اللَّهِ، وَاصْطَفَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ لِنَفْسِهِ، فَإِنْ كَانَتْ لَكِ حَاجَةٌ فِي زَوْجِكِ فَالْحَقِي بِهِ، قَالَتْ: أَظُنُّكَ وَاللَّهِ صَادِقًا، قَالَ: فَإِنِّي صَادِقٌ، الْأَمْرُ عَلَى مَا أَخْبَرْتُكِ، فَذَهَبَ حَتَّى أَتَى مَجَالِسَ قُرَيْشٍ وَهُمْ يَقُولُونَ: إِذَا مَرَّ بِهِمْ لَا يُصِيبُكَ إِلَّا خَيْرٌ يَا أَبَا الْفَضْلِ، قَالَ لَهُمْ: لَمْ يُصِبْنِي إِلَّا خَيْرٌ بِحَمْدِ اللَّهِ، قَدْ أَخْبَرَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ عِلَاطٍ، أَنَّ خَيْبَرَ قَدْ فَتَحَهَا اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ وَجَرَتْ فِيهَا سِهَامُ اللَّهِ، وَاصْطَفَى صَفِيَّةَ لِنَفْسِهِ، وَقَدْ سَأَلَنِي أَنْ أُخْفِيَ عَلَيْهِ ثَلَاثًا، وَإِنَّمَا جَاءَ لِيَأْخُذَ مَالَهُ، وَمَا كَانَ لَهُ مِنْ شَيْءٍ هَاهُنَا، ثُمَّ يَذْهَبَ، قَالَ: فَرَدَّ اللَّهُ الْكَآبَةَ الَّتِي كَانَتْ بِالْمُسْلِمِينَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ، وَخَرَجَ الْمُسْلِمُونَ، وَمَنْ كَانَ دَخَلَ بَيْتَهُ مُكْتَئِبًا حَتَّى أَتَوْا الْعَبَّاسَ، فَأَخْبَرَهُمْ الْخَبَرَ، فَسُرَّ الْمُسْلِمُونَ، وَرَدَّ مَا كَانَ مِنْ كَآبَةٍ، أَوْ غَيْظٍ، أَوْ حُزْنٍ عَلَى الْمُشْرِكِينَ.
مسند احمد حدیث: 12409 عربی حدیث: 

⬇️

وَاصْطَفَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ فَاتَّخَذَهَا لِنَفْسِهِ، وَخَيَّرَهَا أَنْ يُعْتِقَهَا وَتَكُونَ زَوْجَتَهُ، أَوْ تَلْحَقَ بِأَهْلِهَا، فَاخْتَارَتْ أَنْ يُعْتِقَهَا وَتَكُونَ زَوْجَتَهُ

⬇️

...রাসূলুল্লাহ ﷺ সাফিয়াহ বিনতে হুয়াইকে নিজের জন্য বাছাই করে নিয়েছেন এবং তাকে মুক্তি দিয়ে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার অথবা তার পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার অধিকার দিয়েছেন। তিনি মুক্তি পেয়ে তাঁর স্ত্রী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।...
(মুসনাদ আহমদ, হাদীস ১২৪০৯) from al-hadees.com


নবী মোহাম্মদ (সা.) সাফিয়া (রা.) কে ঘৃণা করতেন?

Answer: নবী মুহাম্মদ (সা.) কখনোই সাফিয়া (রা.)‑কে ঘৃণা করতেন না।

হাদিস:

...আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর পেছনে (সাওয়ারীর পিঠে) সাফিয়্যা (রাঃ)-এর জন্য একটি চাঁদর বিছাতে দেখেছি। এরপর তিনি তাঁর সাওয়ারীর উপর হাঁটুদয় মেলে বসতেন আর সাফিয়্যা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাঁটুর উপর পা রেখে সাওয়ারীতে আরোহণ করতেন।-  ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৩৮৯৬, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৪২১১, সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

হাদিস:

"It reached Safiyyah that Hafsah said: 'The daughter of a Jew' so she wept. Then the Prophet (ﷺ) entered upon her while she was crying, so he said: 'What makes you cry?' She said: 'Hafsah said to me that I am the daughter of a Jew.' So the Prophet (ﷺ) said: 'And you are the daughter of a Prophet, and your uncle is a Prophet, and you are married to a Prophet, so what is she boasting to you about?' Then he said: 'Fear Allah, O Hafsah.'" - (Jami` at-Tirmidhi 3894, from sunnah.com)

হাদিস:

৬১৯২-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এর স্ত্রী সফিয়্যাহ্-এর কাছে এ কথাটি পৌছেছে যে, হাফসাহ (রাঃ) তাঁকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছেন। এ কথা শুনে সফিয়্যাহ কাঁদতে লাগলেন। এমন সময় নবী (সা.) তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন। প্রশ্ন করলেন কি কারণে তুমি কাঁদছ? সফিয়্যাহ্ (রাঃ) বললেন, হাফসাহ আমাকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি তো এক নবীর কন্যা, আরেক নবী তোমার চাচা এবং তুমি আরেক নবীর স্ত্রী। অতএব হাফসা কোন কথায় তোমার ওপর গর্ব করতে পারে? অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, হে হাফসা! আল্লাহকে ভয় কর। (তিরমিযী ও নাসায়ী) মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
সহীহ: তিরমিযী ৩৮৯৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৯২১, মুসনাদে আদ ইবনু হুমায়দ ১২৪৮, আবূ ইয়া'লা ৩৪৩৭, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৯৬৭৬।



উপরের হাদীসগুলি নবীর ﷺ‑এর সফিয়া (রা.)‑র প্রতি স্নেহ, সম্মানের স্পষ্ট প্রতীক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইসলামে দাসী সহবাস কি বৈধ? যুদ্ধবন্দী নারীর আসল ইতিহাস!

আজকের একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক আইনের চশমা দিয়ে ৭ম শতকের প্রাচীন আরব সমাজকে বিচার করতে গেলে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট না জেনেই ঢালাও মন্তব্য ও হাসাহাসি করে। আসুন, সম্পূর্ণ যৌক্তিক, মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের আলোকে ক্রমানুসারে এই সত্যটি উন্মোচন করি। প্রাচীন বৈশ্বিক দাসপ্রথা বনাম ইসলামিক সংস্কার (এক নজরে পার্থক্য) অমুসলিম বিশ্বের নিষ্ঠুর দাসপ্রথা (জাহেলি, রোমান ও পার্সিয়ান নিয়ম) ইসলাম কর্তৃক সংস্কারকৃত দাসী প্রথার মানবিক সুবিধা ১. আজীবন দাসত্ব:  দাস-দাসীরা এবং তাদের অনাগত বংশধরেরা চিরকালের জন্য ক্রীতদাস হিসেবেই বেঁচে থাকতে বাধ্য হতো। ১. মুক্তির স্থায়ী মাস্টারপ্ল্যান:  ইসলাম মুক্তির অজস্র আইনি পথ (কাফফারা, যাকাতের খাত, মুকাতাবাহ চুক্তি) তৈরি করে দাসত্ব বিলুপ্তির পথ সুগম করে। ২. গণধর্ষণ ও পতিতাবৃত্তি:  যুদ্ধবন্দী নারীদের, সৈন্যদের উন্মুক্ত বিনোদন বা পতিতালয়ে জোরপূর্বক ব্যবসার কাজে লাগানো হতো। ২. প্রাতিষ্ঠানিক একগামী সুরক্ষা:  একক মালিকানার মাধ্যমে গণধর্ষণ নিষিদ্ধ করে আজীবন ভরণপোষণ ও পারিবারিক সম্...

কয়েক সেকেন্ডে দেওয়া তিন তালাক কি বৈধ? হিল্লা ও মুতা বিয়ে নিয়ে কোরআন-হাদিস কী বলে?

আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের পারিবারিক আইন, বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। সমাজে প্রচলিত ‘হিল্লা বিয়ে’ কিংবা প্রাচীন আরবের ‘মুতা বিয়ে’র মতো কিছু বিকৃত কুসংস্কারকে পুঁজি করে অনেকে ইসলামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান। কিন্তু আমরা কি কখনো মূল ইসলামিক উৎস অর্থাৎ পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিস সরাসরি ঘেঁটে দেখেছি যে, ইসলাম আসলে কী বলে? আসুন, আজ সম্পূর্ণ মার্জিত ও যৌক্তিক উপায়ে কোরআন-হাদিসের অকাট্য প্রমাণের আলোকে এই পুরো বিষয়টির একটি পরিষ্কার ব্যবচ্ছেদ করা যাক। হিল্লা ও মুতা বিয়ে: ইসলামে কি এদের কোনো স্থান আছে? প্রথমেই পরিষ্কার এবং কাটাকাটা ভাষায় জেনে রাখা ভালো— 'হিল্লা বিয়ে' এবং 'মুতা বিয়ে' দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইসলামী শরিয়তে এই দুটিই সম্পূর্ণ হারাম, নিষিদ্ধ ও অবৈধ। মুতা বিবাহ: এটি হলো নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন: ৩ দিন বা ১ মাস) জন্য চুক্তির ভিত্তিতে কোনো নারীর সাথে কেবল সাময়িক যৌন তৃপ্তির উদ্দেশ্যে বিয়ে করা, যা চুক্তির মেয়াদ শেষেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যায়। মুতা বিবাহ ইসলাম তৈরি করেনি, এটি ছিল আরবের জাহেলিয়াত (অন্ধকার) যুগের একটি ...

সৃষ্টিকর্তা কি জোর করে আমাদের এই পৃথিবীর পরীক্ষায় ফেলেছেন, নাকি জন্মের আগেই আমাদের রূহ সবকিছু জেনেবুঝে তাঁর সাথে চুক্তি করেছিল?

মহাবিশ্বের এক পরম করুণাময়, সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞ সত্তা হিসেবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে যখন আমরা চিন্তা করি, তখন আমাদের অবচেতন মনেই বেশ কিছু প্রশ্ন ও খটকা এসে ভিড় জমায়। আমরা অনেকেই হয়তো মুখে প্রকাশ করতে পারি না, কিন্তু একান্তে যখন নিজের বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়াই, তখন এই প্রশ্নগুলো আমাদের মনকে আলোড়িত করে। হয়তো আপনিও কখনো না কখনো একা বসে ভেবেছেন—আমি কেন এই পৃথিবীতে এলাম? নিজের অজান্তেই কি আমরা এক মহাজাগতিক নাটকের মঞ্চে বন্দি হয়ে গেছি? খুব সম্ভবত এই মুহূর্তে আপনার নিজের মনেও ঠিক এই বিষয় সম্পর্কিত নিচের প্রশ্নগুলো প্রতিনিয়ত গুরপাক খাচ্ছে। এমনকি এই লেখাটি পড়তে পড়তে আপনার মনে হতে পারে—আরে! এ তো অবিকল আমারই মনের কথা! এগুলো তো আমারই নিজের প্রশ্ন! তাই আর দেরি না করে, কোনো অন্ধত্ব বা গোঁড়ামি নয়, বরং নিরেট যুক্তি, আধুনিক বিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ব এবং পরম ঐশ্বরিক প্রজ্ঞার আলোকে আপনার মনের সমস্ত কনফিউশন বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করার এখনই উপযুক্ত সময়। আসুন, আমরা এমন ৩২টি গভীর, মনস্তাত্ত্বিক ও যুক্তিনির্ভর প্রশ্নের মুখোমুখি হই এবং অত্যন্ত সহজ ভাষায় এক চরম অকাট্য সত্যকে উন্মোচন করি, যা আমাদের চিরচেনা ভাবনার জগ...

কেন ! মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী বলা যাবে না!

আমরা যারা মুসলিম সবাই এই একটি কথা অবশ্যই বিশ্বাস করি সেটা হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা একশত ভাগ সত্য। কিন্তু অবশ্যই কর্তব্য এমন একটি কাজ আছে যেটা করার সময় আমাদের  অনেকেরই হয় না আমাদের দৈনন্দিন ব‍্যস্ততার কারণে। আর সেই কাজটি হল পবিত্র কুরআনে যা বলা আছে তা বাস্তবিক জীবনে প্রয়োগ করা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস ঠিক মত না জানার কারণে আমরা অনেকেই বিভ্রান্তির শিকার হই কিছু মানুষের দ্বারা যারা পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস দিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমরা সঠিকভাবে পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদীস না জানার কারণে এই বিভ্রান্তির শিকার হই। অনেক বিভ্রান্তিকর প্রশ্নগুলোর মধ‍্যে একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন যেটা ইনশাআল্লাহ আজকে আলোচনা করব। প্রশ্নঃ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কি শিশু ধর্ষক বা শিশু কামী ছিলেন? উত্তরঃ মূল বক্তব্যঃ রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের সময় সাহাবীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ চৌদ্দ হাজার। তাদের সব সময় রাসূল (সা.) এর কাছে থেকে তাঁর সকল কথা শুনা বা সকল কাজ দেখা সম্ভব ছিল না। তাই অধিকাংশ সাহাবীর জানা থাকা হাদীসের মধ্যে কিছু ছিল রাসূল (সা.) এর নিকট থেকে সরাসরি শুনা বা...

যদি সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় হয় ও সব বিপদই তাঁর অনুমতিতে ঘটে, তবে মানুষের অপরাধের দায় কার?

মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের মনেই জীবন, জগৎ এবং এর পেছনের চালিকাশক্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে যখন আমরা চারপাশে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখি কিংবা কোনো মানুষের করা চরম অন্যায় দেখি, তখন মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—" যদি একজন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর থাকেন, তবে পৃথিবীতে এত কষ্ট কেন? সবকিছু যদি তাঁর ইচ্ছায় চলে, তবে মানুষের অপরাধের জন্য মানুষকে কেন দায়ী করা হবে? " আসুন, আজ আমরা কোনো অন্ধ আবেগ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ ছাড়া, সম্পূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক, বৈজ্ঞানিক এবং ইসলামিক দর্শনের অকাট্য দলিলের আলোকে এই প্রশ্নগুলোর গভীরে প্রবেশ করি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ: স্রষ্টার জুলুম নাকি মহাবিশ্ব টিকিয়ে রাখার অপরিহার্য মেকানিজম? কুরআনের সূরা আত-তাগাবুনের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।" আমরা যেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলি (যেমন ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়), আধুনিক বিজ্ঞান কিন্তু এই দুর্যোগগুলোর পেছনের এক পরম সত্য উন্মোচন করেছে। বিজ্ঞান বলছে, এগুলো আসলে কোনো ত্রুটি বা জুলুম নয়, বরং পৃথ...

ইসলাম ধর্ম দাসপ্রথাকে কিভাবে মানবিক করেছে

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকেরই ইসলামে দাস দাসী নিয়ে খারাপ ধারণা আছে আবার এমন অনেকে আছেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন থেকে জবাব দিতে পারি না এমনকি হুজুরের জবাবেও মনে শান্তি পাই না। এর ফলে আস্তে আস্তে অনেকেরই ইসলামের প্রতি বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। তারা ধৈর্য্য সহকারে এই লেখাটি পড়ার অনুরোধ রইল আশা করি এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা আসবে এবং inshAllah, অন্যকে বিভ্রান্ত থেকে বাঁচাতে পারবেন। ইসলাম দাস প্রথার প্রবর্তক নয়; খুব সম্ভবত সেই আদিম বর্বরতার যুগে দাস প্রথার উৎপত্তি হয়েছিল এবং তা লিখিত ইতিহাসের পুরোটা ব্যাপী বিশ্বের প্রধান প্রধান সভ্যতার বৈশিষ্ট্য ছিল। দাস প্রথা ব্যাবিলনিয়া এবং মেসোপটেমিয়াতেও প্রচলিত ছিল। খ্রিস্টান ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে প্রাচীন মিশর, গ্রীস ও রোমিও দাস প্রথা বিশেষ লক্ষনীয় ছিল। দাসত্ব (ইংরেজি: Slavery বা Thralldom) বলতে বোঝায় কোনো মানুষকে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা, এবং এক্ষেত্রে কোনো মানুষকে অন্য মানুষের অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত দুই ভাবে দাস দাসী হয়। যেমনঃ ✅ একঃ অভাব, দুর্ভিক্ষ, নদী ভাঙন, পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যু প্রভৃতি দুর্যোগ কবলিত ব্...

ইসলামে কি মুখ ঢাকা বাধ্যতামূলক? হিজাবের সঠিক নিয়ম, পর্দা করার হাদিস

আচ্ছা, একটা ছোট ধাঁধা দিয়ে শুরু করা যাক। ধরুন, আপনি বাজার থেকে আপনার লাইফের সবচেয়ে দামী আর ব্র্যান্ড নিউ আইফোনটা কিনে আনলেন। এখন ফোনটাকে স্ক্র্যাচ আর চোরের নজর থেকে বাঁচাতে আপনি কি একটা দামী ব্যাক-কভার আর গরিলা গ্লাস লাগাবেন, নাকি ফোনটা নগ্ন অবস্থায় পকেটে রেখে দেবেন? উত্তরটা আমরা সবাই জানি। অথচ, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এসে যখন মুসলিম নারীর সম্মান আর সুরক্ষার প্রশ্ন ওঠে, তখন oneke দাবি korte paren, ইসলামে মুসলিম নারীদের চুল বা মাথা ঢাকার নির্দেশ থাকলেও ‘নিকাব’ ( মুখ, hat, pa, etc. ঢেকে) করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই!" তারা কুরআনের সূরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াত দেখিয়ে bolte paren, আল্লাহ তো আয়াতে সরাসরি ‘মুখ’ শব্দটা বলেননি! প্রথম দেখায় এই কথাগুলোকে অনেকের কাছে খুব প্রগতিশীল আর লজিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু আজ আমরা কোনো অন্ধ বিশ্বাস থেকে নয়, বরং একদম চোখ-কান খোলা রেখে খাঁটি লজিক আর কিছু বম-শেল সহীহ হাদিস দিয়ে এই থিওরির পেছনের মারাত্মক ফাঁকিটা ধরব। প্রমিজ করছি, আগামী ৫ মিনিট আপনার জীবনের অন্যতম সেরা একটি রিডিং এক্সপেরিয়েন্স হতে যাচ্ছে। ১. ‘সৌন্দর্য প্রকাশ না করার’ মনস্তাত্...

স্রষ্টা সব জানলে দুনিয়ায় পরীক্ষা কেন? তাকদির, ভাগ্য বনাম স্বাধীন ইচ্ছা

আমাদের মনে প্রায়ই একটা প্রশ্ন উঁকি দেয়, যা নিয়ে অনেকের মাঝেই বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়।  প্রশ্নটা অনেকটা এইরকম: " স্রষ্টা যদি আগে থেকেই জানেন আমি জান্নাতে যাব নাকি জাহান্নামে, তাহলে দুনিয়াতে পাঠিয়ে এই পরীক্ষার কী দরকার ছিল? আমাদের ভাগ্য ও তাকদির যদি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তবে সরাসরি ভালো মানুষদের জান্নাতে আর খারাপ মানুষদের জাহান্নামে দিয়ে দিলেই তো হতো! " প্রথম দেখায় প্রশ্নটাকে খুব বুদ্ধিদীপ্ত মনে হতে পারে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করলে বুঝবেন, এই ধারণার গোড়াতেই একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি লুকিয়ে আছে। চলুন, আধুনিক বিজ্ঞান ও ডাইমেনশনের ধারণাকে কাজে লাগিয়ে একদম সহজ ভাষায় এর আসল সমাধানটা জেনে নিই। ১. আগে থেকে জানা আর জোর করে করানো এক নয় সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝিটা হয় এখানেই। আমরা অনেকেই মনে করি, স্রষ্টা যেহেতু আগে থেকে আমাদের ভাগ্য জানেন বা তাকদিরে লিখে রেখেছেন, তাই হয়তো আমরা সেটাই করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে মোটেও তেমন নয়। স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা হলো তিনি সময়ের সীমানা পেরিয়ে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একসাথে দেখতে পান। আপনি ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন,...

কে গাণিতিক হিসাবে এগিয়ে? সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী না সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী! [অংক ও সমাধান]

কাল্পনিক দুইটি নাম (রাহি, মাশা) দিয়ে একটি অংক বুঝার চেষ্টা করি যেখানে আমরা বুঝতে পারব সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ও সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীর মধ্যে কে বেশি লাভবানঃ ধরি, মাশা = সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসী রাহি = সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী মাশার স্ত্রীর নাম = মাহি রাহির স্ত্রীর নাম = রানু বি. দ্রঃ রাহি ও মাশা একটি কোম্পানিতে প্রায় একই বয়সে (ধরি, ২৫ বছর বয়সে) একই সাথে খুব ছোট পোস্টে যোগদান  করে (কারণ তাদের পড়াশুনা খুবই কম ছিল) এবং তাদের বেতন সমান। পড়াশুনা খুবই কম থাকার কারণে তাদের বছরের পর বছর কাজ করার পরেও কোন প্রমোশন হচ্ছিল না। সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করার ফলে কোন ভয় না করে মাশা চাকরির পাশাপাশি অল্প কিছু টাকা দিয়ে সুদের ব‍্যবসা সহ লোক ঠকানোর কাজ শুরু করল এবং এই অবৈধ ব‍্যবসা থেকে আস্তে আস্তে লাভও হতে শুরু করল। অপরদিকে, সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করার কারণে রাহি চাকরির পাশাপাশি নিজে কষ্ট করে হলেও গরিবদের সাহায্য করত, সৎ পথে চলত, সুদ থেকে দূরে থাকত, কোনো হারাম আয় করত না এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলত। রানু ও মাহি বান্ধবী। হঠাৎ তারা কি মনে করে একটি সিদ্ধান্তে আসল। সিদ্ধান্তটি হল, যদি...

নাস্তিকদের নাস্তিক হওয়ার কারণগুলো কি কি? [৪টি বক্তব্য]

1. প্রথম নাস্তিকের বক্তব্য: প্রথম বক্তব্যের জবাব : মানুষের দেখার একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে যেমন সব মানুষই এক থেকে তিন ডাইমেনশন পর্যন্ত যে কোন জিনিসের অস্তিত্ব দেখতে পারে. এইরকম আরো অনেক ডাইমেনশন আছে যেমন four ডাইমেনশন থেকে আনলিমিটেড ডাইমেনশন.  উদাহরণস্বরূপ ওয়ান  ডাইমেনশন এবং two ডাইমেনশনের কোন  প্রাণী three ডাইমেনসনের কোন  প্রাণীকে দেখতে পারবে না কিন্তু three ডাইমেনশন এর কোন  প্রাণী,  two ডাইমেনশন এবং one  ডাইমেনশনের  প্রাণীকে দেখতে পারবে. মানুষের দেখার সীমা three ডাইমেনশন পর্যন্ত তাই upper and unlimited ডাইমেনশনের  কোন কিছুর অস্তিত্ব মানুষ দেখতে পারবে না. N.B: সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এতই শক্তিশালী যে তিনি এই ডাইমেনশনের ঊর্ধ্বে. তাই কোন মানুষের পক্ষে তাকে সরাসরি দেখা সম্ভব নয় কিন্তু ডাইমেনশনের ঊর্ধ্বে হওয়ার কারণে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা সবাইকেই পর্যবেক্ষণ করতে পারেন . N.B: এটা আমার ব্যক্তিগত যুক্তি আপনি ইচ্ছা করলে আরো গবেষণা করে দেখতে পারেন. ধন্যবাদ. মানুষের মস্তিষ্ক আরাম প্রিয় এবং সুন্দর জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকে. আপনার যদি...

আমার সম্পর্কে

আমার ফটো
সত্য কথা
I have an interest in writing about the real truth of Islam. Study: I have completed BSC Engineering.